শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে করা তিন মামলার দুইটি খারিজ


প্রকাশিত: ১২:৪৫ পিএম, ১৪ জুলাই ২০১৬

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত বন্দর উপজেলার কল্যান্দি এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পরে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান কানে ধরে উঠবসের ঘটনার দুই মাসের মাথায় তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, শিক্ষার্থী রিফাতকে মারধর ও ঘুষ নেয়ার অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলার আবেদন করা হয়। এর মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও শিক্ষার্থী রিফাতকে মারধরের মামলার আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। অপরদিকে, ঘুষ নেয়ার অভিযোগের মামলাটির আদেশ শনিবার প্রদান করবে আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুজ্জামান শরীফের আদালতে তিনটি মামলার আবেদন দাখিল করা হয়। এরপর বিকেলে দুইটি মামলা খারিজের আদেশ দেয় আদালত। অপর মামলাটির আদেশ শনিবার প্রদান করা হবে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মে ও ১৩ মে ছাত্র রিফাত হাসানকে মারধরের অভিযোগে তার মা রিনা বেগম প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১১০/১৬।

ধর্ম নিয়ে কটূক্তি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে বন্দর কল্যান্দী এলাকার সামছুল হক সামছু আরেকটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১১১/১৬।

অপর মামলাটি আবেদন করেছেন বন্দর উপজেলার কল্যান্দি এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোর্শেদা বেগম।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এস এম সিদ্দিকুর রহমান জানান, মোর্শেদা বেগমকে এমপিওভুক্ত করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত দুই দফায় এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে এমপিওভুক্ত করতে তিনি কোনোরূপ সহায়তা করেননি।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের এসআই সাখাওয়াত হোসেন জানান, যেহেতু উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে, সেহেতু আদালত ২০৩ ধারা অনুযায়ী রিনা বেগম ও সামছুল হক সামছুর মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। অপর মামলার আদেশ শনিবার প্রদান করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে বন্দরের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে ধর্মী অনুভূতিতে আঘাত এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাতকে মারধরের অভিযোগে এলাকাবাসী গণপিটুনি দেয়। এ ঘটনাটি আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করলে বিকেলে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান এসে তাকে জনগণের সামনে কান ধরে উঠবস করান। এরপর তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান তিনি। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগসহ সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

শাহাদাৎ হোসেন/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।