টিফিন খেয়ে ৫ বিদ্যালয়ের ৩০ শিক্ষার্থী অসুস্থ
মাদারীপুরে মিড ডে মিল প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের খাবার খেয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমপক্ষে ৩০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। এর মধ্যে ছয় শিক্ষার্থী মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাঁচটি বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সদর উপজেলার পোকরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাউজদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, করদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পাঁচটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিম্নমানের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বুধবার এসব শিক্ষার্থীদের মাঝে পাউরুটি ও ডিম বিতরণ করা হয়। খাবার গ্রহণের কিছু পরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, শিক্ষার্থীদের মাঝে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি ও পচা ডিম দেওয়া হয়েছিলো। রুটি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল এবং সিদ্ধ ডিম থেকে পানি পড়ছিল। এসব খাবার খাওয়ার পরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুরের পোকরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মেহেরুন চৌধুরী বলেন, আমাদের ছয় শিক্ষার্থী পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে রুটি খাওয়ার পর থেকেই এ সমস্যা শুরু হয়েছে। তবে এখন তারা কিছুটা সুস্থ।
মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শরীফ মোহাম্মদ মারুফ হোসেন বলেন, বিকেল পর্যন্ত পাঁচটি বিদ্যালয়ের তথ্য পেয়েছি। সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি ও ডিম খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, বাচ্চাদের খাবার সরবরাহে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে দিয়ে পরীক্ষা করানো হবে। যারা নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এএইচ/জেআইএম