রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং ঘিরে সাজ সাজ রব

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশিত: ১০:৩৯ এএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ থেকে শুরু হচ্ছে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ঘিরে পুরো প্রকল্প এলাকা ও আশপাশে বইছে উৎসবের আমেজ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে প্রকল্প এলাকায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রূপপুর প্রকল্পের অভ্যন্তরে বিশাল প্যান্ডেল ও মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। নানা রঙের পতাকা ও ফেস্টুন দিয়ে প্রকল্পের ফটক ও অভ্যন্তরে সাজানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেনের, রোসাটমের মহাপরিচালক এলেক্সি লিখাচভ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।

ঈশ্বরদীর জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজ বলেন, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর আজ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং শুরু হচ্ছে। এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, আমাদের কৃষিখাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমরা ঈশ্বরদীবাসী অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং ঘিরে সাজ সাজ রব

রূপপুর গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, আমার দাদার আমল থেকে শুনে আসছি এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে। এখানকার বিদ্যুৎ দেশের চাহিদা মেটাবে। আজ জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, এই প্রকল্প চালু হলে আমাদের এলাকার অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার তাসিম বলেন, রূপপুর প্রকল্প আমাদের জন্য গর্বের। এটি দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতীক। আমরা চাই এটি নিরাপদ ও সফলভাবে পরিচালিত হোক।

পাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১ এর ডিজাইন ও নির্মাণ লাইসেন্স পাওয়ার পর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চলতি মাসের ১৬ তারিখে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, জ্বালানি লোডিং সফলভাবে সম্পন্ন হলে প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেখ মহসীন/এমএন/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।