রাস্তায় ধান ফেলে পলাশবাড়ীতে কৃষকদের প্রতিবাদ


প্রকাশিত: ০১:১৬ পিএম, ১৭ জুলাই ২০১৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় বন্ধ করার ঘোষণার পর রাস্তায় ধান ফেলে প্রতিবাদ করা হয়েছে। গুদামের প্রবেশ পথে ধান ফেলে রোববার দুপুরে কৃষকরা অবস্থান নেন।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলা কৃষি কমিটি অনুমোদিত অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা অনুযায়ী উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের কৃষকদের কাছ থেকে এক হাজার ৯১২ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের অনুমোদনপত্র পাওয়া যায়।

গত ৪ জুলাই পর্যন্ত ওই খাদ্যগুদামে মাত্র ২১৫ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়। নানা অজুহাতে সেখানে কৃষকদের ধান ক্রয়ে টালবাহানা করা হয়। ইতোমধ্যে গত ৪ জুলাই অধিদফতরের এক নির্দেশনার কারণ দেখিয়ে গুদাম কর্তৃপক্ষ সংগ্রহ অভিযান বন্ধ ঘোষণা করে। এ কারণে গুদাম এলাকার ভেতরে আরো ৩৬৪ মেট্রিক টন কৃষকের ধান মজুদ করে রাখা হলেও সেগুলো ক্রয় করা হয়নি। এরই প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা খাদ্যগুদামের সামনের সড়কে ধান ফেলে বিক্ষোভ প্রকাশ করে।

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জহুরুল ইসলাম ও সরকারি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তারা অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ দেখতে পান।

কর্মচারীরা জানান, একজন অফিসার বগুড়া এবং অপরজন রংপুর থেকে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে সকালেই চলে গেছেন।

এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আমজাদ হোসেন জানান, রংপুর বিভাগের ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা ইতোমধ্যে অর্জিত হওয়ায় গত ৪ জুলাই থেকে অধিদফতরের নির্দেশে সংগ্রহ অভিযান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পলাশবাড়ির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে আবার সংগ্রহ অভিযান শুরু করা যাবে।

উল্লেখ্য, সরকারি মূল্য অনুযায়ী প্রতি কেজি ধান খাদ্য ক্রয় কেন্দ্রগুলোতে ২৩ টাকা দরে সংগ্রহ করা হয়। অথচ বাজারে প্রতি কেজি ধান বর্তমানে ১৭ থেকে সাড়ে ১৭ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে।

অমিত দাশ/এআরএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।