বাবা-ছেলে দুজনই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, তবুও মেলেনি ভাতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:২৭ পিএম, ০৩ মে ২০২৬
মানিক মিয়া ও তার ছেলে নাদিম হোসেন

বাবা-ছেলে দুজনই প্রতিবন্ধী। তবুও মেলেনি ভাতা। এ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে পরিবারটি।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের পাড়িয়াপাড়া পাঁচলগোটা গ্রামের বাসিন্দা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানিক মিয়া (৪০)। তার একমাত্র ছেলে নাদিম হোসেনও (১১) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তবে তাদের কেউ প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পাননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর ধরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন মানিক মিয়া। অন্যদিকে জন্ম থেকেই শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে নাদিম। অভাবের কারণে সন্তানের চিকিৎসাও নিয়মিত করাতে পারেননি তিনি। সংসারে নেই কোনো স্থায়ী উপার্জনের উৎস। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

মানিক মিয়া বলেন, ‌‘অনেকদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদ আর সমাজসেবা অফিসে ঘুরছি। কয়েকবার কাগজপত্র জমা দিয়েছি, কিন্তু কার্ড পাইনি। আগের এক মহিলা মেম্বারের স্বামীরে টাকাও দিছি। তাও কোনো কাজ হয়নি। এখন খুবই কষ্ট করে দিন চলে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘একবার ইউএনও স্যারের কাছে গেছিলাম। পরে সমাজসেবা অফিসের লোকজন আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। আমরা দুইজন প্রতিবন্ধী—একজনেরও যদি ভাতা পাইতাম, তাহলে অনেক উপকার হইতো।’

স্থানীয়রা জানান, বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন মানিক মিয়া। ছোট মেয়ে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্ত্রী নাদিরা বেগম গৃহিণী। অভাব পরিবারটির নিত্যসঙ্গী।

এ বিষয়ে পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সুরুজ বলেন, এতদিন ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বরাদ্দ ছিল না। কয়েকদিন হলো বরাদ্দ এসেছে। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ব্যবস্থা করে দেবো।

এসকে রাসেল/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।