বিশ্বকাপের জন্য কবে দল ঘোষণা করবেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি?
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে, ততই চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ শেষ করার পর কোচ কার্লো আনচেলত্তি এখন পুরো মনোযোগ দিয়েছেন বিশ্বকাপ স্কোয়াড গঠনে।
বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল দলের প্রস্তুতি সূচিও প্রায় চূড়ান্ত। ইতালিয়ান এই কোচ এখন ঠিক করছেন সেই ২৬ ফুটবলারের নাম, যাদের নিয়ে বিশ্বকাপ মিশনে নামবে সেলেসাওরা।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে ব্রাজিলকে সর্বোচ্চ ৫৫ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা জমা দিতে হবে। আগামী ১১মে সেই তালিকা ফিফার কাছে পাঠাবে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)।
এই প্রাথমিক তালিকা থেকেই পরে বেছে নেওয়া হবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াড। বাকি ফুটবলাররা স্ট্যান্ডবাই হিসেবে থাকবেন, যাতে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কোনো চোট বা অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত বদলি নেওয়া যায়।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে আগামী ১৮ মে। রিও ডি জেনিরোতে সিবিএফ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে আনচেলত্তি জানিয়ে দেবেন বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করা ২৬ ফুটবলারের নাম।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফিফা স্কোয়াড সংখ্যা ২৬-এ উন্নীত করেছিল। এবারও সেই নিয়ম বহাল থাকছে।
দল ঘোষণার পর ফুটবলারদের হাতে থাকবে নয় দিন সময়। এরপর ২৭ মে তারা যোগ দেবেন ব্রাজিল জাতীয় দলের ট্রেনিং ক্যাম্প গ্রানজা কোমারিতে, যা রিও ডি জেনিরোর তেরেসোপোলিসে অবস্থিত। সেখানেই শুরু হবে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ও অনুশীলন।
বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে নিজেদের মাটিতে একটি বিদায়ী ম্যাচও খেলবে ব্রাজিল। ৩১ মে মারাকানা স্টেডিয়ামে পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে আনচেলত্তির দল। ওই ম্যাচ দিয়েই ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের সামনে শেষবারের মতো খেলবে সেলেসাওরা।
এরপর ১ জুন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবে পুরো দল। ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রেই গ্রুপ পর্বে ঘাঁটি গড়বে ব্রাজিল। উত্তর আমেরিকায় পৌঁছে অনুশীলনের পাশাপাশি আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। ৬ জুন ক্লিভল্যান্ডে মিশরের বিপক্ষে হবে সেই শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ।
এরপরই শুরু হবে মূল বিশ্বকাপ অভিযান। নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবে ব্রাজিল। ‘সি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড ও হাইতি।
দল নির্বাচন নিয়ে আনচেলত্তির বড় অংশের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত। ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সাম্প্রতিক দুই প্রীতি ম্যাচে তিনি শেষ মুহূর্তের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন।
বিশেষ করে প্রথমবার ডাক পাওয়া লিও পেরেইরা ও ব্রেমার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সবচেয়ে বড় চিন্তা আক্রমণভাগ ও মিডফিল্ড নিয়ে। ব্রাজিল কোচ এখনো খুঁজছেন নির্ভরযোগ্য একজন স্ট্রাইকার। ইগর থিয়াগো, এন্দ্রিক ও রিচার্লিসনের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে তাকে।
নেইমারকেও ‘ফলস নাইন’ হিসেবে ভাবা হচ্ছে। যদিও তিনি আগের কয়েকটি স্কোয়াডে ছিলেন না এবং হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর এখনো পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় আছেন।
এদিকে চোট সমস্যা বাড়িয়েছে ব্রাজিলের দুশ্চিন্তা। হাঁটুর লিগামেন্ট অস্ত্রোপচারের কারণে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন রদ্রিগো। তরুণ তারকা এস্তেভাও গুরুতর মাংসপেশির চোট নিয়ে সময়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন। চিকিৎসার জন্য তিনি ব্রাজিলে ফিরছেন।
রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও আবারও চোটে পড়েছেন এবং মে মাস পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের আগে দল নির্বাচন, চোট সমস্যা ও ফর্ম- সবকিছু মিলিয়ে কঠিন এক সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন কার্লো আনচেলত্তি। তবে ব্রাজিল সমর্থকদের আশা, অভিজ্ঞ এই কোচের হাত ধরেই আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখবে সেলেসাওরা।
আইএইচএস/