উজানের ঢলে তলিয়ে গেলো সাড়ে ৪০০ বিঘা জমির ধান
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় সাড়ে ৪০০ বিঘা জমির আধাপাকা ধানক্ষেত। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর পর্যন্ত তিনদিনে উপজেলার সীমান্তঘেঁষা রাধানগর ইউনিয়নের বিল তিলনা, তিলকুচ, সুখডোবা ও গুমরোহিল এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে পানি ঢুকে অন্তত ৬০ হেক্টর জমির ধান ডুবে গেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়ে বাধ্য হয়ে আগেভাগেই আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষকেরা।
কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উজান থেকে আসা পানির তীব্র চাপ ঠেকাতে বিলে অস্থায়ী মাটির বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। যেসব জমির ধান ডুবে গেছে, সেসব কৃষক এখন ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। হঠাৎ পানি বাড়ার সঙ্গে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকটও। একসঙ্গে অধিকাংশ কৃষক ধান কাটায় শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা।

রবিউল ইসলাম নামের এক কৃষক বলেন, ‘শুখডোবা বিলে ১০ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছি। এখন সব জমির ধান মাঠেই আছে। এরই মধ্যে আড়াই বিঘা জমির ধান ডুবে গেছে। জমি থেকে ধান কেটে তুলতে শ্রমিক পাচ্ছি না। আমরা খুব অসহায় হয়ে গেছি।’
রতন আলী নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘১০ বিঘার ধানের মধ্যে এক বিঘা জমির ধান কোনোমতে বাড়িতে তুলতে পেরেছি। বাকি ৯ বিঘা জমির ধান এখনো খেতেই পড়ে আছে। প্রতি বিঘা ধান কাটার জন্য শ্রমিকদের জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে আবার নৌকা ভাড়া যোগ হওয়ায় ক্ষেত থেকে ধান বাড়িতে আনতে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে।’

গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাকলাইন হোসেন জানান, পরিস্থিতি এখন বেশ উদ্বেগজনক। উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে কৃষকদের ধানক্ষেত ক্ষতির মুখে পড়েছে। বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতি কমাতে দ্রুত ধান কেটে নেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সোহান মাহমুদ/এমএন/এএসএম