পাঁচ বছরেও চালু হয়নি ৩৪ কোটি টাকার ট্রমা সেন্টার
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নির্মাণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টার। কিন্তু ২০ শয্যার বিশেষায়িত এই হাসপাতালটি নির্মাণের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি এখনো। ফলে কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ—এই চার জেলার কয়েক হাজারো মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল ৫ একর ৬৬ শতাংশ ভূমির ওপর অধিদপ্তরের প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারের নির্মাণ করা হয়। ২০২০ সালে নির্মাণকাজ শেষে তিনতলা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেয় অধিদপ্তর।
সূত্র জানায়, হাসপাতালটিতে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় চালু করা যায়নি। ভৈরবসহ আশপাশের জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে কমলপুর এলাকায় আধুনিক এ হাসপাতাল ভবন নির্মিত হয়। এতে ডাক্তার নার্সদের জন্য পৃথক বসার ব্যবস্থা, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, বার্ন ম্যানেজমেন্ট, ফার্মেসি, অপারেশন থিয়েটার, কিচেন শেড, দুটি অ্যাম্বুলেন্স শেডসহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
নিজেই ধুঁকছে খুলনা বক্ষব্যাধি হাসপাতাল
বরিশালে নির্মাণের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল
যে উপজেলায় এখনও পৌঁছায়নি চার চাকার যান
কেল্লার স্বপ্ন গোল্লায় গেছে চরবাসীর
কিন্তু নির্মাণের ৫ বছর পার হলেও প্রশাসনিক অনুমোদন, লোকবল নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্র সরবরাহ না করায় শুরু হয়নি চিকিৎসাসেবা। ফলে প্রতি বছরই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ জানান, তিনতলা ভবনের ট্রমা সেন্টারটি ২০২০ সালে নির্মাণ কাজ শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটিতে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকা পরেও এখনো কার্যক্রমের অনুমোদন পায়নি। আশা করছি দ্রুত কার্যক্রম শুরু হবে।
স্থানীয় জেড রহমান প্রিমিয়ার ব্যাংক স্কুল অ্যান্ড কলেজ অধ্যক্ষ মো. শরীফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু না হওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা উপজেলায় নেওয়ার সময় তাৎক্ষণিক চিকিৎসার অভাব হয়। এতে পথেই অনেক রোগী মারা যায়। আবার অনেকে চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেন। তাই দ্রুত চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
আমের মুকুলে আশা, ফলনে হতাশ চাষিরা
বগুড়ার চরে ‘লাল সোনা’ বিপ্লব
পরিশ্রান্ত শরীর চায় ঘুম, মশা আর দূষণের সঙ্গে সহাবস্থান তাদের
হাওরজুড়ে হাহাকার, ধান কাটছে ‘নয়নভাগায়’
ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী বলেন, প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনায় আহতদের ঢাকা পাঠাতে গিয়ে মাঝপথেই অনেকের মৃত্যু হয়। ট্রমা হাসপাতালের জনবল নিয়োগ দিয়ে সেবা কার্যক্রম চালু করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা দ্রুত চিকিৎসা সেবা পাবে। এতে করে অনেক প্রাণ রক্ষা পাবে।

হাসপাতালটিতে কার্যক্রম চালু না হওয়ায় মিলছে না চিকিৎসাসেবা/ ছবি: জাগো নিউজ
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর বলেন, ট্রমা হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হলে ভৈরবসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার লোকজন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। তবে উদ্বোধনের ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালটির কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়নি। হাসপাতাল চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠির মাধ্যমে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হবে।
কিশোরগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্ম্মা বলেন, আমরা হাসপাতালটি চালু করতে প্রয়োজনীয় লোকবল ও যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। আশা করছি দ্রুত হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
এনএইচআর/এএইচ/জেআইএম