বাজারে অপরিপক্ব লিচুর ছড়াছড়ি, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা
পাবনার ঈশ্বরদীর রসালো লিচুর দেশজুড়ে সুখ্যাতি থাকলেও এবার মৌসুমের শুরুতেই অপরিপক্ব ও স্বাদহীন লিচুতে সয়লাব হয়েছে বাজার। বেশি লাভের আশায় বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে কাঁচা ও টক লিচু পেড়ে বাজারে বিক্রি করছেন। তবে অপরিপক্ব এসব লিচু খেয়ে শিশুদের বমি, পেটে ব্যথা ও খিঁচুনিসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
জানা গেছে, ঈশ্বরদী পৌর শহরের রেলগেট, পোস্ট অফিস মোড় ও জয়নগর শিমুলতলা হাটে এসব অপরিপক্ব লিচুতে এখন সয়লাব। ক্রেতারাও চড়া দামে কিনছেন এসব লিচু। বর্তমানে প্রতি ১০০ পিস দেশি (মোজাফ্ফর) জাতের লিচু ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত লিচুচাষি আব্দুল জলিল কিতাব জাগো নিউজকে বলেন, এখন বাজারে অপরিপক্ব লিচু বেচাকেনা হচ্ছে। কিছু বাগান মালিক অতি লাভের আশায় এ ধরনের লিচু বিক্রি করছে। এ লিচু কিনে ক্রেতারা একদিকে লিচুর প্রকৃত স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে এ লিচুতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহ পরে বাজারে পাকা রসালো লিচু উঠবে।

অপরিপক্ক এসব লিচু বেচাকেনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সাকিব হোসেন। তিনি বলেন, খালি পেটে এসব কাঁচা লিচু খেলে শরীরের গ্লুকোজ তৈরির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে গুরুতর হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বমি, তীব্র পেটে ব্যথা, খিঁচুনিসহ নানা জটিল সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তিনি বলেন, অপরিপক্ব লিচুতে অনেক সময় ক্ষতিকর অর্গানো ফসফরাসযুক্ত কীটনাশক স্প্রে করা হয়, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
উপজেলার জয়নগর শিমুলতলা হাটে লিচু বিক্রেতা আনিসুর রহমান বলেন, দুই দিন ধরে শিমুলতলা হাটে দেশি (মোজাফ্ফর) জাতের লিচু বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বোম্বাই ও চায়না থ্রি লিচু বাজারে না ওঠা পর্যন্ত লিচু বেচাকেনা জমবে না। বোম্বাই ও চায়না থ্রি লিচু বাজারে আসতে এখনো ১৫-২০ দিন সময় লাগবে।

মানিকনগর গ্রামের লিচু চাষি আব্দুল আলিম বলেন, এবার ঈশ্বরদীতে লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। এখন দেশি জাতের লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝিতে বোম্বাই লিচু বাজারে উঠবে। এখন যেসব লিচু বাজারে দেখা যাচ্ছে এগুলো গুণগত মান খুব বেশি উন্নত না এবং রসালোও না।
ঈশ্বরদী বাজারের স্টেশন রোডের লিচু বিক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, এখন যে লিচু বিক্রি করছি, এটি দেশি জাতের লিচু। বাগান গিয়ে এ লিচু সংগ্রহ করে বাজারে এনে বিক্রি করছি। সত্য কথা বলতে, এখনো পুরোপুরি লিচু পাকা শুরু হয়নি। বাগান মালিকরা বেশি দাম পেয়ে এসব লিচু বিক্রি করছে।

অপরিপক্ব লিচু স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে আমি কিছু বুঝি না। লাভের আশায় বিক্রি করছি।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর ঈশ্বরদীতে ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে মোজাফফর, বোম্বাই, চায়না-থ্রি ও বেদানা জাতের লিচুর আবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, প্রকৃত স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করতে কৃষকদের আরও অন্তত ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। কৃষি বিভাগ থেকে এ বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। লিচু পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার পরই যেন বাজারজাত করা হয়।
শেখ মহসীন/কেএইচকে/জেআইএম