তিস্তায় কমেছে পানি, বেড়েছে ভাঙন


প্রকাশিত: ১০:১৮ এএম, ১৮ জুলাই ২০১৬

তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচে নামলেও ভাঙন তীব্রতর হচ্ছে। রোববার তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সোমবার সকাল থেকে বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তার ভাঙনে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের একতার বাজার, পুকুর পাড়, টাবুর চর, জিঞ্জিরপাড়া, চরখড়িবাড়ীসহ ১০টি গ্রামের রাস্তাঘাট, বসতভিটা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। রাস্তা ঘাট না থাকায় এসব এলাকার লোকজনকে নৌকা ও কলার ভেলায় চলাচল করতে হচ্ছে।

সোমবার সকাল থেকে টেপাখড়িবাড়ীর একতার বাজার সংলগ্ন পুকুর পাড়ের ৪০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।  

জানা গেছে, তিস্তার প্রবল ভাঙনে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের মধ্যচরখড়িবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধেক ভবন নদীতে ভেঙে বিধ্বস্ত হয়। শুধু এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; ওই ইউনিয়নের ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১টি নার্সারি স্কুল, ২টি কমিউনিটি ক্লিনিক, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভাট,শতশ ত হেক্টর আবাদী জমি ও সহস্রাধিক পরিবারের বসতভিটা বন্যা ও ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে গেছে। যে কোনো সময় চরখড়িবাড়ি সীমান্তের বিজিবির দ্বিতল ভবনটিও বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে। ফলে বিজিবির পক্ষে ওই ক্যাম্পের সকল জরুরি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

Tista

তিস্তা নদীর কড়াল গ্রাসে সোমবার সকাল থেকে নতুন করে চরখড়িবাড়ি এলাকায় আরো ১৭টি ও পুকুর পাড়ের ৪০টি পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়েছে। সেই সঙ্গে বিলীন হয়েছে ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮১টি ফিট তিনটি ক্লাস রুম। একতার বাজারটি ভাঙনের মুখে পড়ায় ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, রোববার টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। হঠাৎ পানি বিপদসীমার নিচে নেমে আসায় ভয়াবহ ভাঙনের দেখা দেয়। ডিমলা উপজেলা প্রশাসন ও এলাকার মানুষজন স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙনরোধে বালির বস্তা, বাঁশ ও গাছের পাইলিং করেও ভাঙনের কবল থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার রক্ষা করতে পারছে না।
 
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি সকাল ৬টা থেকে ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুপুর ১২ টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকাল ৩টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে আবারো ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জাহেদুল ইসলাম/এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।