২৬ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে বালুর সঙ্গে মাটি, আরও আছে নিম্নমানের খোয়া

হুসাইন মালিক
হুসাইন মালিক হুসাইন মালিক চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ১২:৩০ পিএম, ১২ মে ২০২৬
নির্মাণের পরপরই বিভিন্ন স্থানে সড়ক ফেটে গেছে আবার কোথাও দেবে গেছে। ছবি/ জাগো নিউজ

চুয়াডাঙ্গার লোকনাথপুর থেকে জীবননগর পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান ১৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে বালুর বদলে মাটি মিশ্রণ, নিম্নমানের ও পুরাতন ইটের খোয়া ব্যবহার এবং উপকরণে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে সড়ক দেবে যাওয়া ও ফাটল দেখা দেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। যদিও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সড়ক বিভাগ বলছে, কাজ এখনো চলমান রয়েছে এবং ত্রুটিগুলো ঠিক করে দেওয়া হবে।

‘রাস্তায় যে বালু ব্যবহার করা হয়েছে তা ভালো মানের না। খোয়ার পরিমাণ বেশি হলেও কাজের মান খুবই খারাপ। এখনই বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ভেঙে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে।’

চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে লোকনাথপুর থেকে জীবননগর আঞ্চলিক মহাসড়কের সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজের অনুমোদন পায় যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মঈনুদ্দিন বাসি লিমিটেড। ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের কাজের ব্যয় ধরা হয় ২৫ কোটি ৯৬ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৭ টাকা। আগে ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কটি ২৪ ফুটে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী গত মার্চ মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এখনো কাজ চলমান রয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন প্রস্তুতকালে প্রায় ৯০ ভাগ কাজ শেষের দিকে দেখা যায়।

২৬ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে বালুর সঙ্গে মাটি, আরও আছে নিম্নমানের খোয়া

আরও পড়ুন-
টেকসই মেরামতের অভাবে বেহাল শাবিপ্রবির সড়ক
মাগুরায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, স্থানীয়দের ক্ষোভ
সড়কের কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার, দুর্ভোগে অর্ধলাখ মানুষ

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি গত কয়েকদিন আগে জীবননগরের পেয়ারাতলা এলাকায় অনিয়মের প্রতিবাদে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন। তাদের দাবি, বালুর সঙ্গে মাটি মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে এবং পুরাতন ইটের খোয়া দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণের পরই বিভিন্ন স্থানে সড়ক ফেটে গেছে এবং কোথাও কোথাও দেবে গেছে। এছাড়া সড়কের দুই পাশ অস্বাভাবিক নিচু হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

‘কিছু জায়গায় এজিং লেভেলের সমস্যা দেখা দিয়েছে। পুরো কাজ শেষ হলে সড়কের সব অংশ সমান করে দেওয়া হবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, রাস্তায় যে বালু ব্যবহার করা হয়েছে তা ভালো মানের না। খোয়ার পরিমাণ বেশি হলেও কাজের মান খুবই খারাপ। এখনই বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ভেঙে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে।

২৬ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে বালুর সঙ্গে মাটি, আরও আছে নিম্নমানের খোয়া

জীবননগরের স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন, রাস্তা নির্মাণের সময় সড়ক বিভাগের কোনো কর্মকর্তাকে এলাকায় তেমন দেখা যায়নি। তদারকির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো কাজ করেছে। এভাবে কাজ করলে অল্প সময়েই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন-
সড়ক নির্মাণে বিল যাচ্ছে, কাজ হচ্ছে না
উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ছে ৩ কোটি টাকার সড়ক-সেতু
বরিশালে নিরাপদ মহাসড়কের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মঈনুদ্দিন বাসি লিমিটেডের জুনিয়র প্রকৌশলী আলামিন হোসেন বলেন, যান চলাচল স্বাভাবিক রেখে কাজ করতে হওয়ায় কিছু জায়গায় এজিং লেভেলের সমস্যা দেখা দিয়েছে। পুরো কাজ শেষ হলে সড়কের সব অংশ সমান করে দেওয়া হবে।

২৬ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে বালুর সঙ্গে মাটি, আরও আছে নিম্নমানের খোয়া

চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, সড়কের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। যান চলাচলের সুবিধার্থে কিছু অংশ খোলা রাখা হয়েছে। কার্পেটিং ও ওয়ারিং কোর্সের কাজ শেষ হলে রাস্তার লেভেল ঠিক করা হবে। কোথাও কোনো ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।

এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।