বর্ষা শুরুর আগেই রাজশাহীতে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি
এখনো পুরোপুরি শুরুই হয়নি বর্ষা মৌসুম। এরই মধ্যে সামান্য বৃষ্টিতেই রাজশাহী শহরের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা। অল্প সময়ের বৃষ্টিতে কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, কোথাও দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারীরা। নগরবাসীর অভিযোগ, বৃষ্টি হলেই পানি নামতে দীর্ঘ সময় লাগছে। এমন পরিস্থিতিতে ভরা বর্ষায় নগরজীবন কতটা বিপর্যস্ত হতে পারে, তা নিয়ে এখন থেকেই উদ্বেগ বাড়ছে রাজশাহীবাসীর মধ্যে।
সম্প্রতি গত সপ্তাহে মাত্র ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই নগরীর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়ক, হেতেমখা, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানিও দেখা গেছে। পানিতে আটকে পড়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যদিও বৃষ্টি থামার কিছু সময় পর পানি নেমে যায়, তবুও সাময়িক এই জলাবদ্ধতা নগরজীবনকে অনেকটাই অচল করে তোলে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, বর্ষা সামনে রেখে ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকার ড্রেন পরিষ্কার, কাদামাটি ও ময়লা অপসারণের কাজ চলছে।
তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রাজশাহী শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪৯০ কিলোমিটার ড্রেন রয়েছে। তবে বাস্তবে এই বিশাল ড্রেন নেটওয়ার্কও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে পারছে না নগরবাসীকে।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী শহরকে দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর শহর বলা হয়। কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। তখন চলাচল করাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। সময়মতো ড্রেন পরিষ্কার না করায় এই সমস্যা হচ্ছে।

কলেজ শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই ক্লাসে যেতে সমস্যা হয়। রাস্তার পানি অনেক সময় ড্রেনের ময়লার সঙ্গে মিশে দুর্গন্ধ ছড়ায়। সিটি করপোরেশনকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।
হেতেমখা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মমিন বলেন, ড্রেনের অবস্থা খুব খারাপ। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করা হলে এত পানি জমত না। প্রতিবছর একই সমস্যা হচ্ছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান দেখা যাচ্ছে না।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোজ কুমার ঘোষ বলেন, বর্তমানে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণকাজ চলছে। বিশেষ করে সড়ক ও বড় ভবন নির্মাণের সময় ড্রেনেজ ব্যবস্থা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য বিভাগীয় শহরের তুলনায় রাজশাহীতে জলাবদ্ধতা তুলনামূলক কম। কারণ পদ্মা নদীর পানি ধারণক্ষমতা বেশি এবং নগরীর ড্রেনগুলোও যথেষ্ট প্রশস্ত। তবে নাগরিক অসচেতনতার কারণেও সমস্যা বাড়ছে। পলিথিন, প্লাস্টিক বোতলসহ বিভিন্ন বর্জ্য ড্রেনে ফেলে পানির প্রবাহ আটকে দেওয়া হচ্ছে। গত কয়েক বছরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ফলে ড্রেনের ধারণক্ষমতার বাইরে পানি চলে যাওয়ায় দুই থেকে তিন ঘণ্টার জন্য জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, বড় ড্রেনের ময়লা উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঠে নামানো হয়েছে। নগরীর কোথায় পানি জমছে তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন। কোথায় কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে তা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া অল্প বৃষ্টিতেই কোন এলাকায় কী ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণের জন্য ১০ দিনের একটি বিশেষ পাইলট প্রকল্প চালু করেছে সিটি করপোরেশন। এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ড্রেন পরিষ্কার, পানি প্রবাহ সচল রাখা এবং ময়লা অপসারণের কাজ করা হচ্ছে।
মনির হোসেন মাহিন/এনএইচআর/এএসএম