কমিউনিটি ক্লিনিক
ডিম-শাকসবজি দিলে মেলে ওষুধ, খালি হাতে গেলে বলেন ‘নেই’
খালি হাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলে মেলে না ওষুধ। বলা হয় ওষুধ নেই। অথচ রোগী সঙ্গে করে শাকসবজি, ডিম নিয়ে এলে ঠিকই ওষুধ দেন স্বাস্থ্যকর্মী।
ময়মনসিংহের গোপালনগর কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) সাদিকা আক্তারের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়ির কাছে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও তারা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ক্লিনিকে গেলে ওষুধ পাওয়া যায় না। রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন সিএইচসিপি সাদিকা আক্তার।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজ মোড়ল বলেন, ‘আমরা সেবা নিতে হাসপাতালে গেলে ম্যাডাম (সিএইচসিপি) আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। একটু কাছে দাঁড়িয়ে কথা বলতে চাইলে দূর দূর করে। আমাদেরকে তারা মানুষ হিসেবে মূল্যায়নই করে না।’
একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ৭০ বছর বয়সী রহিমা খাতুন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, “আমরা এখানে এলে বলে, ‘ওষুধ নেই’। আবার কিছুক্ষণ পরই দেখা যায় কেউ সবজি অথবা ডিম নিয়ে আসছেন, তখন তাকে একই ওষুধ ঠিকই দিয়ে দিচ্ছে। আমরা কিছু বললে আমাদের সঙ্গে চিল্লাফাল্লা শুরু করে। তাই ভয়ে কিছু বলি না।’

কলেজছাত্র রানা বলেন, ‘পেট খারাপের জন্য গেলে একটা স্যালাইনও দিতে তিনি নানা বাহানা করেন। কিছু বলতে গেলেই আমাদের বলেন, কেউ তার চাকরি খেতে পারবে না।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিএইচসিপি সাদিকা আক্তার। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘লোকজন যা অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।’
তিনি বলেন, ‘ওষুধ থাকলে দিতে আমার কোনো সমস্যা নেই। যখন ওষুধ থাকে না, তখনতো দিতে পারি না।’
অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ওষুধ সরবরাহের বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এখানে আত্মীয়ের বাসা রয়েছে। অনেক সময় তারা ডিম, শাকসবজি দিয়ে যান। আমি অফিসে রেখে দেই। অফিস শেষে বাসার যাওয়ার সময় নিয়ে যাই।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহজাহান কবির বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিকের ওষুধ ঢাকা থেকে আসে। এখন ক্লিনিকে কী ওষুধ আছে, সেটা আমাকে না জানালে তো আর জানতে পারবো না। জানালে সেটা সমাধান করা যাবে।’
স্বাস্ব্যকর্মীর অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি এসেছে, তা খুবই দুঃখজনক। যেহেতু মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি, তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হবে। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসআর/এএসএম