ফেসবুক লাইভে গালাগালির জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২৫
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ভবানীপুর গ্রামে ফেসবুক লাইভে গালাগালির জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষ চলাকালে ৪-৫টি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে নিজাম মিয়ার ছেলে পাবেল (৩৪), মাসুদ মিয়ার ছেলে ফারুক (১৩), মুর্শিদ মিয়ার ছেলে ইয়াসিন (১৩), সুবর্ণা বেগম (২০), সাগর মিয়া, হোসাইন, আসাইন, পারভেজ, নাইম, দুধ মিয়া ও ফরহাদ মিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত পাবেল মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বধুর গোষ্ঠীর নেতা বাদশা মেম্বার ও ময়দর মুন্সির বাড়ির নেতা মেরাজ মেম্বারের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ৮ মে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ময়দর মুন্সির বাড়ির ফরহাদের সঙ্গে একই বাড়ির মাসুমের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে থানা-পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।
পরবর্তীতে গতকাল শুক্রবার রাতে ময়দর মুন্সির বাড়ির ফরহাদ মিয়াসহ কয়েকজন ফেসবুক লাইভে এসে বধুর গোষ্ঠীর নেতা বাদশা মেম্বারকে গালাগালি করেন। এর জেরে ময়দর মুন্সির বাড়ির বাদশা মিয়া ভবানীপুর বাজারে ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গেলে প্রতিপক্ষ বধুর গোষ্ঠীর লোকজন তাকে মারধর করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতেই দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয় এবং কয়েকজন আহত হয়। একই ঘটনার জেরে শনিবার সকালে ফের দু’পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২৫ জনেরও বেশি লোক আহত হন। এ সময় ৪-৫টি ঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
বধুর গোষ্ঠীর নেতা বাদশা মিয়া বলেন, ‘শালিসের মাধ্যমে ঝগড়াটি মীমাংসা হওয়ার পর মেরাজ মেম্বারের বাড়ির ফরহাদসহ কয়েকজন ফেসবুকে আমাকেসহ আমাদের বংশের লোকদের গালাগালি করে। এই ঘটনার পর আমাদের পক্ষের লোকজন তাদের সতর্ক করে দেয়। কিন্তু রাতে আমাদের বাড়ির দুটি ছেলে চকবাজার থেকে মুরগি কিনতে গেলে মেরাজ মেম্বারের লোকজন তাদের ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে এটি দুপক্ষের সংঘর্ষে রূপ নেয়।’
ময়দর মুন্সির বাড়ির নেতা মেরাজ মেম্বার বলেন, ‘ঝগড়া মীমাংসার পর বাদশা মেম্বারের লোকজন আমাদের বাড়ির একজন রোগী বাজার থেকে ওষুধ আনতে গেলে তাকে মারধর করে আহত করে। এরই জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। পরবর্তীতে আজ সকালে বাদশা মেম্বারের লোকজন নতুন করে আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
এ বিষয়ে ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. পাবেল মোল্লা জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
রাজীবুল হাসান/এমএন/এমএস