ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস: শিক্ষকসহ গ্রেফতার ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৩৬ পিএম, ১৬ মে ২০২৬
ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় পুনের এক উদ্ভিদবিদ্যার (বোটানি) শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই। এ নিয়ে মামলায় মোট গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজনের সংখ্যা দাঁড়ালো নয় জনে।

সিবিআই জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া শিক্ষকের নাম মনীষা গুরুনাথ মন্ধারে। তাকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের পর।

তিনি ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (আন্ডারগ্র্যাজুয়েট) পরীক্ষার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি তাকে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল বলে জানিয়েছে সিবিআই।

তদন্ত সংস্থার দাবি, এপ্রিল মাসে তিনি পুনের আরেক অভিযুক্ত মনীষা ওয়াঘমারের মাধ্যমে কিছু পরীক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে নিজের বাড়িতে ওই শিক্ষার্থীদের জন্য কোচিং ক্লাস নেন।

সিবিআইয়ের অভিযোগ, তিনি বোটানি ও জুলজি থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ফাঁস করেন এবং শিক্ষার্থীদের খাতায় লিখে রাখতে ও বইয়ে দাগ দিতে বলেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই প্রশ্নগুলোর বেশিরভাগই ২০২৬ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে গেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সিবিআই ভারতের ছয়টি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ল্যাপটপ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। এগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ চলছে।

এ পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া নয় জনের বাড়ি দিল্লি, জয়পুর, গুরুগ্রাম, নাসিক, পুনে ও আহিল্যানগরে। এর মধ্যে পাঁচজনকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুনে থেকে গ্রেফতার দুইজনকে দিল্লিতে আনা হচ্ছে। বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সিবিআই জানিয়েছে, তদন্তে তারা রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের প্রশ্নফাঁসের মূল উৎস এবং সেই চক্রের দালালদের খুঁজে পেয়েছে। অভিযুক্তরা লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের বিশেষ কোচিং ক্লাসে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিত, যেখানে পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো আগে থেকেই বলে দেওয়া হতো ও আলোচনা করা হতো।

এর আগে সিবিআই জানায়, মামলার মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত পি ভি কুলকার্নিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি এনটিএর হয়ে পরীক্ষার কাজে যুক্ত এক রসায়ন শিক্ষক ছিলেন।

সিবিআইয়ের দাবি, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে কুলকার্নি ও মনীষা ওয়াঘমারে মিলে পুনেতে তার বাড়িতে কিছু নির্বাচিত শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ কোচিংয়ের আয়োজন করেন।

তদন্তকারীদের ভাষ্য, ওই কোচিং সেশনে তিনি প্রশ্ন, অপশন ও সঠিক উত্তর বলে দিতেন। শিক্ষার্থীদের খাতায় লেখা প্রশ্নগুলো হুবহু পরীক্ষার রসায়ন প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে গেছে।

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চশিক্ষা বিভাগের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১২ মে সিবিআই মামলা দায়ের করে।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।