ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে বিএনপি নেতাদের হামলায় প্রাণ গেলো মায়ের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১১:০৫ এএম, ১৭ মে ২০২৬
বিএনপি ও ছাত্রদলের অভিযুক্ত নেতৃবৃন্দ

কক্সবাজারের উখিয়ায় হামলার সময় সন্তানকে বাঁচাতে যাওয়া মাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার (১৬ মে) রাত ৮টার দিকে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ছৈয়দা বেগম (৪৮) রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকার শ্রমজীবী সাব্বির আহমদের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সপ্তাহখানেক আগে দেওয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা থানায় এজাহার দিলেও মামলা হয়নি। এরপর থেকেই মূলত থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

শনিবার স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জিসানের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘হা হা’ রিয়েক্ট দেন ছাত্রলীগ নেতা ইউনুস। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইউনুসকে মারধর শুরু করলে বাঁচাতে এগিয়ে যান এনজিওকর্মী এসএম ইমরান। তখন ইমরানকেও মারধর শুরু করেন তারা। পরে খবর পেয়ে ইমরানকে বাঁচাতে তার মা এগিয়ে গেলে বিএনপি নেতারা তাকে মারধর করেন।

এতে গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন ইমরানের মা ছৈয়দা বেগম। সেখান থেকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে নিহতের সন্তানেরা দাবি করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার, আব্দুল করিম, আকাশ, সাইফুল সিকদার, ছৈয়দ বাবুল, মাহবুবুর রহমান, ছালাম সিকদার, ছাত্রদল নেতা জিসান ও অ্যাম্বুল্যান্স চালক শামসুল আলমের নেতৃত্বে খুন করা হয় ছৈয়দা বেগমকে।

তবে হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্ত কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতা ইউনুসকে মারধরের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। কিন্তু বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে আটক করা হয়নি।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, আমাদের কাছে খবর আসে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা একজন নারী মারা গেছেন। কীভাবে মারা গেছেন তা কেউ অভিযোগ করেনি, কোথাও সংঘর্ষ হয়েছে কিনা জানা নেই। এরপরও বিষয়টি যাচাই করতে সুরতহাল করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কেউ এখনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।