পিনাক-৬ ট্র্যাজেডি : অজ্ঞাত ২১ জনের খোঁজ নেয়নি কেউ


প্রকাশিত: ০৪:০২ এএম, ০৪ আগস্ট ২০১৬

আজ ৪ আগস্ট (বৃহস্পতিবার)। পদ্মায় স্মরণকালের ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনার দুই বছর। আজকের এই দিনে পিনাক-৬ নামে লঞ্চ দুর্ঘটনায় সরকারি হিসেবে ৪৯ জন এবং বেসরকারি হিসেবে ৮৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজ থাকে ৬৪ জন। আর উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে ২১ জনকে মাদারীপুরের শিবচর পৌর কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। দুই বছরেও তাদের কারো পরিচয় চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

জানা যায়, ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে মাওয়ার উদ্দেশ্যে আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাওয়া পিনাক-৬ পদ্মা নদীর মাঝে ডুবে যায়। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করার কারণে ডুবে যায় পিনাক-৬।

মাদারীপুরের শিবচরে স্বজন হারানো কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিরব-নিস্তব্ধ বাড়ির চারপাশ জুড়ে যেন বিষাদের ছায়া। ঈদ করতে গ্রামে এসেই স্বজনদের হারানো পরিবারের মাঝে ঈদ আর আনন্দ বয়ে আনে না। তাদের কাছে এখন ঈদ মানেই শুধু স্বজন হারানোর কষ্ট।

Madaripur

শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের লপ্তেরচরে পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবিতে নিহত মিজানুর হাওলাদারের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে বিষাদের ছায়া। বেঁচে থাকা বৃদ্ধ মায়ের ঘোলাটে চোখে শুধু লোনা পানি। ঈদ এলেই বৃদ্ধ মায়ের বুক ব্যথায় ভারী হয়ে ওঠে।

শিবচর পৌরসভার মেয়র মো. আওলাদা হোসেন খান বলেন, ডিএনএ টেস্টের নমুনার সঙ্গে যদি কেউ প্রমাণ সাপেক্ষে মৃতদেহ সনাক্ত করতে আসে, তাহলে তারা চাইলে দেহবাশেষ নিতে পারবেন।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরান আহমেদ বলেন, পিনাক-৬ লঞ্চ দুর্ঘটনার পরই কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে বিভিন্ন সময় লঞ্চ চলাচলে সতর্ক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেই লোমহর্ষক ঘটনার পর থেকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ৬৫ ফুটের নিচের লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন বলেন, টেস্টের নমুনা কপি শিবচর থানায় সংরক্ষিত রয়েছে। প্রতিটি থানায় বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল। যদি কেউ খোঁজ নিতে আসে, তাদের সহায়তার আশ্বাস দিলেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

নাসিরুল হক/এসএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।