ডায়েটের জাদুতে মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণ করে ১৮ কেজি ওজন কমালেন আমির খান

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:২৩ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
আমির খান, ছবি: সংগৃহীত

২০২৫ সালে আমির খানের চেহারায় হঠাৎ পরিবর্তন চোখে পড়ে অনেকেরই। স্বাভাবিকের তুলনায় ওজন বেশ খানিকটা বেড়ে যাওয়ায় গুঞ্জন শুরু হয়-নতুন কোনো চরিত্রের জন্য কি নিজেকে ভাঙছেন তিনি? কিন্তু জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আমির নিজেই জানিয়ে দেন আসল কারণ। জনপ্রিয় এক বিনোদন পোর্টালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, এই ওজন বৃদ্ধি কোনো চরিত্রের জন্য নয়, বরং দীর্ঘদিনের মাইগ্রেনের চিকিৎসার অংশ হিসেবে নেওয়া স্টেরয়েডই এর মূল কারণ।

তবে স্বাস্থ্যকে নতুন করে অগ্রাধিকার দিয়েই ২০২৬ সালে পা রেখেছেন আমির খান। সম্প্রতি তিনি জানান, একটি প্রদাহ-বিরোধী (অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি) ডায়েট অনুসরণ করে তিনি প্রায় ১৮ কেজি ওজন কমিয়েছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো-এই সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন কোনো নির্দিষ্ট চেহারার জন্য নয়, বরং দীর্ঘদিনের মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যেই করেছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই রূপান্তর নিয়ে হালকা হাসিতে আমির বলেন, ‘আঠারো কিলো, আসলে। এটা পরিকল্পিতভাবে ওজন কমানোর চেষ্টা ছিল না। স্বাস্থ্যগত কারণে যে ডায়েটটা আমি অনুসরণ করছি, সেটাই আমার জন্য জাদুর মতো কাজ করেছে।’

তিনি আরও যোগ করেন বলেন ‘আমি মাইগ্রেনের জন্য এই ডায়েট শুরু করেছিলাম। এটা প্রদাহ-বিরোধী ডায়েট। শুধু ওজনই কমেনি, আমার মাইগ্রেনের ব্যথাও অনেকটাই কমে গেছে।’

প্রদাহ-বিরোধী ডায়েট কী?
প্রদাহ-বিরোধী ডায়েট মূলত এমন একটি খাদ্যাভ্যাস, যা শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিনের প্রদাহকে মাইগ্রেন, জয়েন্টের ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি এমনকি নানা জটিল রোগের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এই ডায়েটে সাধারণত গুরুত্ব দেওয়া হয় তাজা শাকসবজি, ফলমূল, গোটা শস্য, বাদাম, বীজ এবং জলপাই তেলের মতো স্বাস্থ্যকর চর্বিকে। পাশাপাশি অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার, পরিশোধিত চিনি, ট্রান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

যদিও আমির তার নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকার খুঁটিনাটি প্রকাশ করেননি, তবে তার অভিজ্ঞতা থেকেই স্পষ্ট-খাবারের ধরন পরিবর্তন শুধু বাহ্যিক পরিবর্তনই আনেনি, বরং ভেতর থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পথও খুলে দিয়েছে।

আমির খানের এই যাত্রা আসলে শুধু ওজন কমানোর গল্প নয়। এটি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এক বাস্তব উদাহরণ। তার অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, সঠিক চিকিৎসা, সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের পরিবর্তন একসঙ্গে কাজ করলে জটিল সমস্যার সঙ্গেও লড়াই করা সম্ভব।

সূত্র: এনডিটিভি নিউজ

আরও পড়ুন:
মাইগ্রেন কি প্রাণঘাতী? 
শীতে প্রস্রাবের চাপ, লুকিয়ে থাকতে পারে কিডনির সংকেত 

এসএকেওয়াই/

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।