১৫ বছর পর সোনাতলা পৌর নির্বাচন রোববার
বগুড়া জেলার সোনাতলা পৌরসভায় দীর্ঘ ১৫ বছর পর আগামীকাল রোববার পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
শনিবার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচনী এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচনে মেয়র পদে তিন প্রার্থী থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র (আ’লীগ বিদ্রোহী) প্রার্থীর মধ্যে।
জানা গেছে, মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শহীদুল বারী খান রব্বানী, বিএনপির এটিএম গোলাম রকিব এবং স্বতন্ত্র (আ’লীগ বিদ্রোহী) জেলা জাতীয় যুব শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলরের ৯টি পদে ৪৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরের তিন পদে ১২ জন নির্বাচনে লড়বেন।
নির্বাচনের আগে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খলিলুর রহমান প্রথম প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক কারণে সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির ২০০১ সালের শেষে মেয়রের দায়িত্ব নেন। তিনি ২০০৮ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। পৌর সীমানা জটিলতা মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় নির্বাচন কমিশন গত ২৭ জুন সোনাতলা পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শহিদুল বারী খান রব্বানী আশা প্রকাশ করেন, পৌরবাসী উন্নয়নের প্রতীক নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে তাকে নির্বাচিত করবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ জাহাঙ্গীর আলম নান্নু জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী তিনি।
এদিকে বিএনপির এটিএম গোলাম রকিব বলেন, এখনো সবকিছু অনুকূলে আছে। তবে ভোটের দিন অরাজকতা সৃষ্টি করা হতে পারে বলে তিনি শঙ্কিত। এ কারণে পুলিশকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
সোনাতলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলমগীর জানান, পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রের ৪৯ বুথে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ইউনুচ আলী জানান, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের স্বার্থে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ২৬ এপ্রিল সোনাতলা পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। ১২.৩৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের তৃতীয় শ্রেণির এ পৌরসভায় সীমানা সংক্রান্ত মামলা থাকায় এতদিন নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি।
লিমন বাসার/এএম/এমএস