ওষুধ সঙ্কটে পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও স্যাটেলাইট ক্লিনিক
ঈশ্বরদীতে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সঙ্কট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ না থাকায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং ৫৬টি স্যাটেলাইট ক্লিনিকে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। গত ৮ মাস থেকে এই অবস্থা চললেও প্রতিকারের উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের।
উপজেলা পরিবার-পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ জনপদে মা-শিশু ও পরিবার-পরিকল্পনা এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রত্যেক ইউনিয়ন ও বিভিন্ন গ্রামে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও স্যাটেলাইট ক্লিনিক চালু করে। ঈশ্বরদীর এসব সরকারি সেবাকেন্দ্র থেকে প্রতিমাসে গড়ে তিন হাজার মানুষের সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কিন্তু বিরাজমান ওষুধ সঙ্কট নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি করেছে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে মাসে একটি ‘কিটবক্স’ দেয়া হয় যাতে ২৭ প্রকার ওষুধ থাকে। এছাড়া স্যাটেলাইট ক্লিনিকে দেড়মাস পর পর ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে এসব সেবাকেন্দ্রে মানুষ প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছে না। এই অবস্থায় শুধু ব্যবস্থাপত্র নিয়ে রোগীদের ফিরে যেতে হচ্ছে। অনেকে আর্থিক সঙ্কটের কারণে বাজার থেকে ওষুধ কিনতে পারে না। ফলে এসব রোগীদের শারীরিক সমস্যা বেড়েই চলেছে।
সরেজমিনে সাঁড়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ওষুধ না পেয়ে রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন।
কেন্দ্রের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ডা. ইকবাল হোসেন জানান, ওষুধ না থাকায় শুধু ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন, ফলে রোগীদের এখানে আসার আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
একই অবস্থা দেখা গেছে পাকশী ইউনিয়নেও। কর্মচারীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। রোগীর চাপ নেই। আগে প্রতিদিন ৭৫-৮০ জন রোগী দেখতে হতো। কিন্তু এখন ওষুধও নেই, রোগীও নেই।
দিয়াড় বাঘইল গ্রামের রোজিনা খাতুন (৩৭), রোকেয়া বেগম (৪০) ও অপি খাতুন (২৮) এই কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য এসেও ফিরে গেলেন খালি হাতে।
এসব বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসান আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওষুধ সরবরাহ না থাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো কার্যত অচল হতে চলেছে। তবে ওষুধ সরবরাহ আসলে আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
এফএ/এবিএস