কিডনি বিক্রি করে নেশার টাকা দিতে মাকে মারধর


প্রকাশিত: ১১:১৭ এএম, ২৬ আগস্ট ২০১৬

লক্ষ্মীপুরে নেশার টাকার জন্য গর্ভধারিণী মায়ের কিডনি ও রক্ত বিক্রি করার জন্য মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় মা হাসপাতালে যেতে না চাইলে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে মাদকাসক্ত ছেলে রিমন (২২)। এতে মা বাধা দিতে গেলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার সদর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বাঞ্চানগর এলাকার সোনালী কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে বাবা শাহজাহান ও মা আয়েশা বেগম বিচার চেয়ে স্থানীয় কাউন্সিলের কাছে অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ছেলে রিমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। বৃহস্পতিবার নেশার টাকার জন্য সে মাকে বিরক্ত করে। টাকা নেই জানালে কিডনি ও রক্ত বিক্রি করে টাকা দেয়ার জন্য মাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে টানাহেঁচড়া করে। এ সময় মা যেতে না চাইলে উত্তেজিত হয়ে রিমন মাকে মারধর করে। সেই সঙ্গে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।     

ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল খায়ের স্বপন জানান, মাদকাসক্ত রিমনের বাবা-মা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ছেলের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কমকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি অভিযোগ লিখে আমার কাছে জমা দিয়েছেন। অভিযোগটি শিগগিরই ইউএনও’র কাছে পাঠানো হবে।

স্থানীয়রা জানায়, পৌরসভার বাঞ্চানগর এলাকার সোনালী কলোনীর বাসিন্দা শাহাজাহানের চার ছেলে ও দুই মেয়ে। রিমন সবার ছোট। চট্রগ্রামের একটি গার্মেন্টসে কাজ করতো রিমন। প্রায় ছয় মাস আগে ছুটিতে বাড়িতে আসে। এরপর থেকে কাজে না গিয়ে এলাকার ছেলেদের সঙ্গে আড্ডা জমায় সে। সেখান থেকেই নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে রিমন। প্রায়ই ঘরে এসে নেশার টাকা দাবি করে। না দিলেই হাঁড়ি-পাতিল, আসবাবপত্র ভাঙচুর। তবে, সে শুধু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই অশোভন আচরণ করে। অন্য কারো সঙ্গে নয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সবশেষ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মার কাছে নেশার টাকা দাবি করে রিমন। টাকা নেই জানালে মাকে নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু করে সে। এ সময় হাসপাতালে গিয়ে কিডনি ও রক্ত বিক্রি করে নেশার টাকা দিতে বলে রিমন। মা যেতে না চাইলে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে সে।

রিমনের বাবা বলেন, এক সময় ছেলেটা ভালো ছিল। আয়-রোজগার করতো। এলাকার ছেলেদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে এখন সে খুব খারাপ হয়ে গেছে। মাদকে ডুবে গেছে। ছেলের অত্যাচার থেকে এখন আমরা বাঁচতে চাই।

মা আয়েশা বেগম বলেন, কি ছেলে, কি হলো। ভাবতে কষ্ট লাগে। টাকা না দিলেই সে আমাদেরকে মারধর শুরু করে। হাসপাতালে গিয়ে কিডনি, রক্ত বিক্রি করে টাকা দিতে বলে আমাকে।

পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল খায়ের স্বপন বলেন, ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্যের কারণে এখন ঘরে-ঘরে চরম অশান্তি। মাদকের ভয়াবহ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে তরুণ প্রজম্ম নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগটি পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

কাজল কায়েস/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।