সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতেই নাসিরনগরে তাণ্ডব

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৩:৩৮ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০১৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনদের সঙ্গে মুসলমানদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির খ্যাতি রয়েছে জেলাজুড়ে। তাদের মধ্যে সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। তবে ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরীফ নিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র করে পোস্ট দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার তাণ্ডব চলে নাসিরনগর উপজেলা সদরে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ১০টি মন্দির ও শতাধিক ঘর-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থদের অনেকেই মনে করছেন, নাসিরনগরের হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করতেই হয়তো একটি মহলের ইন্ধনে এ তাণ্ডব চালানো হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনিবার পবিত্র কাবা শরীফের উপর শিবমূর্তি বসিয়ে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ দাস (৩০) তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টটি মানুষের চোখে পড়লে পুলিশ রসরাজকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় ওইদিনই রসরাজের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তবে রসরাজের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো নাসিরনগর উপজেলা। প্রথমে স্থানীয়রা রজসাসের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করলেও পরবর্তীতে হেফাজতে ইসলাম ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম-আত ওই বিক্ষোভে যুক্ত হয়।

রোববার সকালে আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম-আত ও হেফাজতে ইসলাম উপজেলা সদরের আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ও কলেজ মোড়ে পৃথক দুটি সমাবেশ আহ্বান করে। সমাবেশ থেকেই টুপি-পাঞ্জাবী ও গেঞ্জি পড়া শত শত লোক উপজেলা সদরের অন্তত ১০টি মন্দির ও শতাধিক ঘর-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্থরা।

নাসিরনগরে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দত্ত বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। তারা প্রথমে দত্ত বাড়ির কালি মূর্তি ভাঙচুর করে এবং পরবর্তীতে দত্ত বাড়ির লোকজনদের উপর হামলার চেষ্টা করে।

নাসিরনগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও দত্ত বাড়ির মালিক কাজল জ্যোতি দত্ত জাগো নিউজকে বলেন, সমাবেশ থেকে শত শত লোক দত্ত বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির কালি মূর্তি ভাঙচুর করে আমাদের উপর হামলার চেষ্টা করে। এসময় আমাদের প্রতিবেশি কয়েকজন মুসলিম লোক এসে আমাদের রক্ষা করেছেন।

ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরীফকে ব্যাঙ্গচিত্র করে পোস্ট দেয়ার পশাপাশি কোনো বিশেষ মহলের ইন্ধনে নাসিরনগরের হিন্দু-মুসলমানদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে এই তাণ্ডব চালিয়ে থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

দত্তপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুশান্ত চন্দ্র রায় জাগো নিউজকে বলেন, হামলাকারীরা হিন্দু-মুসলমানদের সম্প্রীতি নষ্ট করে সরকারকে বিব্রত করতেই এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। যারা এ তাণ্ডবের সঙ্গে জড়িত আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা কাশিপাড়ার যুবক জাহাঙ্গীর জাগো নিউজকে বলেন, নাসিরনগরের হিন্দুদের সঙ্গে মুসলমানরে একটি চমৎকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্প্রীতি বিনুষ্ট করতেই একটি মহলের মদদে এই তাণ্ডব চালানো হয়ে থাকতে পারে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, নাসিরনগরের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য নানা শ্রেণির মানুষের সম্পৃক্ত করে সম্প্রীতি সমাবেশ করেছি। এর মাধ্যমে নাসিরনগরে দীর্ঘদিনের যে ঐতিহ্য ও সম্প্রীতি রয়েছে সেটি ফিরিয়ে আনা হবে।

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সবদিন বিবেচনা করেই ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত করে যারাই হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমএএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।