রাত নামলেই মহাবিপদ!


প্রকাশিত: ০৭:৫২ এএম, ০৬ নভেম্বর ২০১৬

রাত নামলেই মহাবিপদ সামনে এসে দাঁড়ায় মানিকগঞ্জ পৌরবাসীর। রাত ১১টার পর বন্ধ হয়ে যায় সব ওষুধের দোকান। শহর হয়ে পড়ে একেবারে যানবাহন শূন্য। ফলে কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেয়ারও উপায় থাকে না। রাতে বন্ধ পাওয়া যায় সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগও।

পৌর এলাকার বাসিন্দারা জানান, রাজধানীর পাশের এ জেলা শহরে সূর্য ডুবলেই সুনসান নীরবতা নেমে আসে। রাত গভীর হওয়ার আগেই সব দোকান বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচলও। পরিণত হয় এক ভূতের শহরে।

শনিবার রাত ১১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত শহর ঘুরে এমন চিত্রই মিলেছে। হাজারো যানবাহন আর মানুষের কোলাহলে দিনভর শহর মুখর থাকলেও মধ্যরাতের চিত্র একেবারেই উল্টো। শহর এবং বাসস্ট্যান্ড এলাকার প্রতিটি ওষুধের দোকান বন্ধ পাওয়া যায়। শহরের বিভিন্ন মার্কেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন নৈশপ্রহরী আর বেওয়ারিশ কুকুর ছাড়া রাস্তায় কারো দেখা মেলেনি।

রোগীর সুরক্ষায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নিয়ম থাকলেও রাত সোয়া ১টায় মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ পাওয়া গেছে। রুমের বাতি বন্ধ করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরের একটি রুমে ঘুমিয়ে ছিলেন দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. জিল্লুর রহমান ও এক কর্মচারী। এ প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে চিকিৎসক ও কর্মচারী দুজনেই জেগে ওঠেন। জরুরি বিভাগের বাতি জ্বালিয়ে বসেন নিজের আসনে।

জরুরি বিভাগের বাতি বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. জিল্লুর রহমান জানান, কিছুক্ষণ আগে তিনি রুমে গিয়েছিলেন। তাকে ডাকা মাত্র উঠে এসেছেন। তবে কর্মচারীদের জরুরি বিভাগের বাতি বন্ধ করা ঠিক হয়নি বলে জানান তিনি।

রাতে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর আউটডোর সেবাও বন্ধ থাকে। শহরের একটি ক্লিনিকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নৈশপ্রহরী আওলাদ হোসেন জানান, কয়েক দিন আগে ক্লিনিকে এক প্রসূতি নারীকে নিয়ে তার স্বজনেরা এসেছিলেন। কিন্তু ক্লিনিক রাতে বন্ধ থাকে। ডাক্তারকে ফোন করলে বলেন ভোর ৫টার আগে আসা সম্ভব নয়।

ওই এলাকার রিকশাচালক লাল মিয়া জানান, মাসখানেক আগে রাতে তার ভাতিজা হঠাৎ পেটের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। শহরের কোনো ওষুধের দোকান এমনকি হাসপাতাল-ক্লিনিক খোলা পাওয়া যায়নি।

মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট দীপক ঘোষ জাগোনিউজকে জানান, রাত ১০-১১টার পর শহরের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে ওষুধের দোকান বন্ধ থাকায় তাদের চরম বিপাকে পড়তে হয়। যানবাহন না থাকায় অসুস্থদের হাসপাতালেও নেয়া যায় না।

তিনি জানান, শহর ও বাসস্ট্যান্ডে একটি করে ওষুধের দোকান রাতে খোলা রাখা এবং পৌরসভায় অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার দাবি তাদের দীর্ঘ দিনের। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

প্রভাষক সাইফুদ্দিন আহম্মেদ নান্নু জাগোনিউজকে জানান, রাতে একটি শিশুর জন্য স্যালাইনের প্রয়োজন হলেও পাওয়া সম্ভব নয়। আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও পৌরসভার শেষ সীমানার একজন বাসিন্দা যানবাহনের অভাবে তা গ্রহণ করতে পারে না।

তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এ নিয়ে কারও কোনো উদ্যোগ দেখছি না।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম জাগোনিউজকে জানান, রাতে ওষুধের দোকান খোলা রাখা এবং অসুস্থদের হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করা তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলো। বিষয়টি নিয়ে তিনি পৌর কাউন্সিল, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

বি এম খোরশেদ/আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।