পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মুখর পূণর্ভবার তীর


প্রকাশিত: ০৬:৪৫ এএম, ০৭ নভেম্বর ২০১৬

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনাজপুরে দুই দিনব্যাপী পালিত হচ্ছে সূর্যপূজা। এ পূজাকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় ছট পূজা। প্রতি বছর কালী পূজার পর শুক্লা পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে নদীর তীরে সূর্যদেবতাকে সন্তুষ্ট করতে এই পূজা উদযাপন করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

দিনাজপুরের পূণর্ভবা নদীতে মনোবাসনা পূর্ণ, আপদ-বিপদ দূরীকরণসহ বিভিন্ন মানত পূরণে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর হরিজন, রবিদাস ও রজক সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজার হাজার পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে এই সূর্যপূজায়। নদীর তীর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে পুণ্যার্থীদের পদচারণায়।

সূর্যপূজার প্রথম দিনে ৬ নভেম্বর রোববার বিকেলে পূজারিরা উপবাস থেকে ফুল, প্রসাদ, বাদ্য-বাজনাসহ বিভিন্ন পূজার সামগ্রী নিয়ে দিনাজপুরের পূণর্ভবা নদীর তীরে উপস্থিত হয়। সেদিন সূর্যাস্ত যাওয়ার অাগ মুহূর্তে পুণ্যার্থীরা নদীতে গোসল এবং কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে সূর্যের দিকে মুখ করে কুলায় সাজানো প্রসাদ নিয়ে পূজা শুরু করে।

dinajpur

সূর্য অস্ত যাওয়ার পর সবাই বাড়িতে ফিরে যান। আবার পরের দিন ৭ নভেম্বর সোমবার নদীর তীরে উপস্থিত হয়ে সূর্য উদয় হওয়ার আগ মুহূর্ত থেকে একই নিয়মে পূজা শুরু করেন তারা। সূর্য উদয় হওয়ার পর সূর্যকে প্রণাম করে নদীতে স্নান এবং শরবত পানের মধ্য দিয়ে শেষ করেন সূর্যপূজা।

সূর্যপূজা করতে আসা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ও শুক্লা সাহা বলেন, আমরা সূর্যদেবতাকে সন্তুষ্ট করতেই এই পূজা করে থাকি। এই পূজাকে ছট পূজাও বলা হয়। ছট পূজার মাধ্যমে সূর্যদেবতা সন্তুষ্ট হয় আর আমাদের মনোবাসনা, মানত পূরণ করে দেয়। এই আশায় আমরা প্রতি বছর ছট পূজা করতে ছুটে আসি পূণর্ভবা নদীর তীরে। এছাড়াও সবার শান্তি কামনায় এই পূজা করা হয়।

এদিকে সূর্যপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীর হরিজন, রবিদাস ও রজক সম্প্রদায়ের হলেও পূণর্ভবা নদীতে ওই পূজা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন খেলনা ও খাওয়ার দোকান নিয়ে বসে সেখানে।

dinajpur

এমদাদুল হক মিলন/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।