শেরপুরে পর্নোগ্রাফির মামলায় ৫ জনের কারাদণ্ড


প্রকাশিত: ১১:৪৬ এএম, ০৭ নভেম্বর ২০১৬

শেরপুরের মধুটিলা ইকোপার্কে নববধূর শ্লীলতাহানির ভিডিওচিত্র মোবাইল ফোনে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে এবার স্বামীসহ পাঁচজনের তিন থেকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে শেরপুরের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. হারুন অর-রশীদ এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মধুটিলা ইকোপার্ক এলাকার বখাটে শফিকুল ইসলাম, আব্দুস ছালাম, মনু মিয়া, ইজারাদার প্রতিনিধি গোলাম মোস্তফা ও স্বামী নজরুল ইসলাম বুলবুল।

আদালতের পিপি গোলাম কিবরিয়া বুলু জানান, রায়ে শফিকুল ইসলামকে পর্নোগ্রাফি আইনের দুটি ধারায় ১২ বছরের কারাদণ্ডসহ দেড় লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো দেড় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আসামি আব্দুস সালাম ও মনু মিয়াকে পর্নোগ্রাফি তৈরিতে সহযোগিতার অভিযোগে সাত বছরের কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আসামি গোলাম মোস্তফাকে পর্নোগ্রাফি সরবরাহের অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডসহ এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

ওই নববধূর স্বামী নজরুল ইসলাম বুলবুলকে পর্নোগ্রাফি তৈরিতে সহযোগিতার অভিযোগে সাত বছরের কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ে জরিমানার টাকা আদায় হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভিকটিমকে প্রদানের আদেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর ওই নববধূকে শ্লীলতাহানির মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই পাঁচজনের প্রত্যেকের সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে স্বামীর সাথে বেড়াতে যাওয়া ওই নববধূকে বখাটেরা অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে। পরে ওই নববধূর পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে বখাটেরা ইন্টারনেটে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়। চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় নববধূ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে নালিতাবাড়ী থানায় ২০১৪ সালের ১৩ আগস্ট দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন।

চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় তদন্ত শেষে পুলিশ সংশ্লিষ্ট আইনে নববধূর স্বামী নজরুল ইসলাম বুলবুল ও ইকোপার্কের কর্মচারী গোলাম মোস্তফাসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর আদালতে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করে। শ্লীলতাহানির মামলায় গত বছরের ৩ নভেম্বর ওই পাঁচ আসামির ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার পর্নোগ্রাফির মামলার রায় ঘোষণা হলো।

হাকিম বাবুল/আরএআর/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।