এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেয়ার অভিযোগ


প্রকাশিত: ১২:০৬ পিএম, ০৮ নভেম্বর ২০১৬

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ঝাড়বাড়ি আমজাদিয়া দাখিল মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দাখিল সার্টিফিকেট (দাখিল) পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অভিভাবকরা বিপাকে পড়েছেন।

বোর্ডের ওয়েব সাইটে দেখা যায়, ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের জন্য নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফি প্রতিপত্র ৮০ টাকা, ব্যবহারিক ফি ৩০ টাকা, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ফি ৩৫ টাকা, মূল সনদ ফি ১০০ টাকা, স্কাউট ফি ১৫ টাকা, শিক্ষা সপ্তাহ ফি ৫ টাকা, কেন্দ্র ফি ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বোর্ড ফিসহ নির্ধারণ ফির পরিমাণ সবমিলে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা হলেও আমজাদিয়া দাখিল মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ৩ হাজার টাকা করে ফি নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে দাখিল পরীক্ষার্থী আল-মামুন জানায়, গতবার দেখেছি ১ হাজার ৮০০ টাকায় ফরম পূরণ করতে হয়েছে। কিন্তু এবার ৩ হাজার টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করতে হয়েছে। আমাদের পরিবার অনেক গরিব। এই টাকা সংগ্রহ করতে অনেক কষ্ট হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গত বছরের পরীক্ষার্থী তোফাজ্জল হোসেন জানান, গতবার আমি মানবিক বিভাগ থেকে ফরম পূরণ করেছি ১ হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে। এবার তো অনেক বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে অনেক হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থী পরীক্ষা থেকে বাড় পড়বে।
 
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে বেশির ভাগ গরীবের সন্তানেরা মাদরাসায় পড়াশোনা করে টাকার অভাবে। অথচ সেই মাদরাসায় পরীক্ষা দিতে স্কুলের চেয়ে বেশি টাকা লাগে। তাহলে তো আগামী দিনে কেউ মাদরাসায় পড়তে যাবে না। খুব গরিব মানুষের সন্তানেরা এখা পড়ালেখা করে। এরা এতোগুলো টাকা পাবে কোথায়।

জানতে চাইলে মাদরাসার সভাপতি মো. ফরাদুল ইসলাম বলেন, মাদরাসার সভায় আমি সুপারকে বলেছি আশেপাশে সব মাদরাসায় খোঁজখবর নিয়ে ফি নির্ধারণ করার জন্য। তিনি আমাকে জানিয়েছেন আশেপাশে দেখে তিন হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।  

বীরগঞ্জ ফাযিল মাদারাসা সহকারী অধ্যাপক আলহাজ্ব ফারুক হোসেন বলেন, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা ১ হাজার ৮০০ টাকা ফি নির্ধারণ করেছি। এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ আছে বলে আমার জানা নেই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. রাবেয়া বেগম বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সর্তক করে জানিয়ে দিয়েছি অতিরিক্ত ফি ফেরত দেয়ার জন্য। যদি নির্দেশনা অমান্য করে অতিরিক্ত ফি গ্রহণ করে তাহলে অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন জানান, এ ব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমদাদুল হক মিলন/এএম/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।