সাতক্ষীরায় মড়কে শতাধিক ছাগলের মৃত্যু


প্রকাশিত: ১০:১২ এএম, ১০ নভেম্বর ২০১৬

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রাজনগর, দেবনগর ও আখড়াখোলা তিনটি গ্রামে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে ছাগলের মড়ক দেখা দিয়েছে। এতে গত ১৮ দিনে অজ্ঞাত রোগে মারা গেছে শতাধিক ছাগল। প্রতিদিনই বাড়ছে ছাগল মৃতের সংখ্যা।

এদিকে মালিকরা চিকিৎসা দিয়েও ছাগল বাঁচাতে না পেরে কমদামে বিক্রি করে দিচ্ছেন। সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামের এবাদুল ইসলাম জানান, গত ২৪ অক্টেবর থেকে চারদিনে তার নয়টি ছাগল মারা গেছে।

তিনি বলেন, সন্ধ্যায় সুস্থ স্বাভাবিক ছাগল মাঠ থেকে এনে গোয়ালে রাখেন। সকালে দেখতে পাই ছাগলগুলোর গলা ফোলা ও পাতলা পায়খানা করছে। কোন কিছুই খায় না। বিকেলে মারা যেতে শুরু করে। তিনদিনে আমার ৯টি ছাগলই মারা গেছে। ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা।

তিনি আরো জানান, ২৮ অক্টোবর পাশের দেবনগর গ্রামের রবিউল ইসলামের একইভাবে দুটি ছাগল মারা গেছে। গত কোরবানির ঈদে তার দুটো ছাগলের মূল্য হয়েছিল ২০ হাজার টাকা। ছাগলের মড়ক দেখা দেয়ায় দুটি ছাগল তিনি ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

এভাবে একই গ্রামের মোহম্মদ আলী সরদারের তিনটি, মেহেদি হাসানের একটি, হারুন সরদারের তিনটি ছাগল, আব্দুল মান্নানের দুটি ছাগল, আহম্মদ আলীর পাঁচটি, এছাক গাজীর একটি, ওসমান গণির একটি, সরূপ সরদার দুইটিসহ শতাধিক ছাগল মারা গেছে।

ছাগল মালিকরা জানান, পাতলা পায়খানা ও গলা ফোলার পর অল্প সময়ের মধ্যে মারা যাচ্ছে ছাগল। তারা অভিযোগ করে বলেন, মাঠ পর্যায়ে পশু সম্পদ বিভাগের সহকারীরা কর্মরত থাকলেও তারা কেউ গ্রামে আসেন না। এসব বিষয়ে তারা কোন খোঁজ খবরও রাখেন না।

দেবনগর গ্রামের গ্রাম পশু চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দেবনগর, রাজনগর ও আখড়াখোলা এলাকায় পাতলা পায়খানা ও গোলাফুলে শতাধিক ছাগল মারা গেছে। আক্রান্ত হওয়ার ঘণ্টা খানেক পর ছাগল মারা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপ্লজিৎ কর্মকার জানান, কোনো মালিক ছাগলের অসুখ কিংবা মারা যাওয়ার বিষয়ে তাদের অবহিত করেননি। এলাকায় নতুন ঘাস খেয়ে ছাগলের পাতলা পায়খানা হতে পারে। বিষয়টি তিনি এলাকায় গিয়ে খোঁজ খবর নেবেন বলেও জানান।

আকরামুল ইসলাম/এএম/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।