ছেলের শাবলের আঘাতে মায়ের মৃত্যু


প্রকাশিত: ০১:৩৭ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় শুভরাড়া গ্রামে ছেলের শাবলের আঘাতে সৎ মায়ের মৃত্যু হয়েছে। নাজমা বেগম (৩৫) শুভরাড়া গ্রামের সরোয়ার হোসেন মোল্যার স্ত্রী।

এ ঘটনায় রোববার অভয়নগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।  

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানান, সরোয়ার হোসেনের দুই স্ত্রী। এর মধ্যে নাজমা বেগম দ্বিতীয়। পারিবারিক কলহের জের ধরে শনিবার সকালে নাজমা বেগমের সঙ্গে স্বামী সরোয়ার হোসেন, শ্বশুর নূর মোহাম্মাদ মোল্যা (৭৭), সতীন রেশমা বেগম (৩৮) ও সতীনের দুই ছেলে মেয়ে আব্দুর রহিম ও তানিয়া বেগমের (১৮) ঝগড়া হয়। এসময় সবাই মিলে তাকে বেদম প্রহার করে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে সতীনের ছেলে আব্দুর রহিম শাবল দিয়ে নাজমা বেগমের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর জখম হন।

মুমূর্ষু অবস্থায় এলাকাবাসীরা তাকে উদ্ধার করে খুলনার ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওই দিন বিকেলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজে নেয়া হয়। এরপর শনিবার রাতে সেখানে তার মৃত্যু হয়। নিহত নাজমা বেগমের নাজমিন নামে আট মাসের কন্যা সন্তান রয়েছে।

নাজমা বেগমের বাবার বাড়ি ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামে। এ ঘটনায় নিহত নাজমার ভাই আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে রোববার অভয়নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

নাজমার ভাই আব্দুল মান্নান বলেন,‘স্বামী, শ্বশুর, সতীন, সতীনের দুই ছেলে-মেয়ে মিলে আমার বোনকে কিল ঘুষি এবং লাঠি দিয়ে বেদম মরধর করেছে। এক পর্যায়ে আব্দুর রহিম শাবল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয়েছে।’  

পুলিশ নাজমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে রোববার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
 
বাশুয়াড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন খান বলেন, ‘শাবলের আঘাতে নাজমা বেগমের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে অভয়নগর থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

মিলন রহমান/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।