রূপগঞ্জে সরকারি খেলার মাঠ দখলের অভিযোগ


প্রকাশিত: ০৬:০৩ এএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৬

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দুইশ বছরের পুরনো একটি খেলার মাঠের অর্ধেক অংশ স্থানীয় ভূমিদস্যুরা অবৈধভাবে দখল করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার গোলাকান্দাল দক্ষিণ পাড়া এলাকায় অবস্থিত এ মাঠ দখলের কারণে এখানকার শিশু, কিশোর ও ছাত্রছাত্রীরা খেলাধুলা করতে পারছে না।

স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, গোলাকান্দাইল এলাকাটি একটি জনবহুল এলাকা।  এখানে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য বসবাস করে আসছেন। গোলাকান্দাইল মৌজার এসএ ২৮৪, আরএস ৩৪৩, এসএ ৯৬২, আরএস ১৭৬৮ দাগে ষোল আনায় ৯৭ শতাংশ, এসএ ১১৩৯, আরএস ২১১৯ দাগে ষোল আনায় ৯৮ শতাংশ, মোট ১৯৫ শতাংশ পতিত সম্পত্তির উপর একটি খেলার মাঠ রয়েছে। দুইশ বছর ধরে এখানে বসবাসরত ছাত্র-ছাত্রী, শিশু কিশোরসহ বড়দের খেলাধুলা, বিয়ের অনুষ্ঠান, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য গোলাকান্দাইল এলাকার এ মাঠটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ খেলার মাঠ ছাড়া ওই এলাকায় বিকল্প খেলার মাঠও নেই। মাঠটি সরকারিভাবে তদারকি করা হয়ে থাকে বলে ইউনিয়ন ভূমি অফিস সুত্রে জানা গেছে।

কাগজপত্রে এ মাঠটি এককভাবে কোনো ব্যাক্তি বা গোষ্ঠীর নয়। এটি সর্ব সাধারণের সম্পত্তি। এ মাঠটি জবর-দখলের পর থেকে ছাত্র-ছাত্রী, কিশোর কিশোরীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। এতে করে তাদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ  মাঠটি দখলমুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ রয়েছে, গোলাকান্দাইল এলাকার ভূমিদস্যু সফিকুল ইসলাম মোল্লা, মোস্তফা খা, আবু সিদ্দিক, বাহারুম, মোবারক, আবু মিয়া, হাসান মিয়া, ইব্রাহিম, আওয়াল, মহি উদ্দিন, আলমগীর, সামসু, বাছেদ, আলী আহম্মেদ, ওমর আলী, মুন্নাফ, জব্বার মেম্বার, সেরাজুল, জাহাঙ্গীর মাঠের প্রায় অর্ধেক অংশ জবরদখল করে পাকা ও আধা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে ফেলেছে। বর্তমানে যেটুকু অংশ  বাকী আছে সেটুকুও দখলের চেষ্টা করছে।

rupgonj

স্থানীয়রা আরও জানান, গোলাকান্দাইলসহ আশ-পাশের এলাকায় ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার সঙ্গে সঙ্গে এ এলাকায় জমির দাম বেড়ে যায়। পাশাপাশি জনসংখ্যাও বেশি। এ জন্য সরকারি জমিও ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। খেলার মাঠটির পাশেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেল রয়েছে। স্থানীয় ভূমিদস্যুরা ওই ক্যানেলটি জবরদখল করে ভরাট করে বিভিন্ন লোকজনের কাছে ভুয়া কাগজ বানিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করতে গেলে ভূমিদস্যুরা হুমকি-ধামকি দেয়। এতে করে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।

এ বিষয়ে জমি দখলকারী সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল জাব্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মহিউদ্দিন সামসুল মেম্বার, ইব্রাহিমসহ অনেকেই মাঠের জমি জবরদখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। তাই আমিও একটু জমি দখল করে ওয়ার্কশপ করেছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা ইসলাম বলেন, মাঠ দখলের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

মীর আব্দুল আলী/আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।