সাড়ে ৩ কোটি টাকা চাঁদা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ


প্রকাশিত: ১০:১৫ এএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৬

খুলনা থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া রূপসা পরিবহনের ৪৩টি গাড়ি থেকে মালিক সমিতির নামে বছরে ৩ কোটি সাড়ে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

খুলনা মোটর বাস মালিক সমিতির যশোর অঞ্চলের নেতারা এ দুর্নীতির প্রতিবাদে গত ২০ ডিসেম্বর থেকে পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে বুধবার (২১ ডিসেম্বর) যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করেছেন।

মালিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক হানিফ হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিষদের ১৩ সদস্যের ৭জনসহ পরিবহন মালিকরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে তারা দাবি করেন, খুলনা থেকে প্রতিদিন রূপসা পরিবহনের ৪৩টি গাড়ি কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। পরিবহন ছাড়ার সময় খুলনা কাউন্টার থেকে ৪০০ টাকা, ঝিনাইদহ থেকে আপে ৪০০, ডাউনে ৩০০ এবং কুষ্টিয়া থেকে ৪৫০ টাকা আদায় করা হয়।

একইভাবে গড়াই পরিবহনের ৪০ গাড়ি থেকেও সম পরিমাণ টাকা আদায় করা হয়। এর বাইরে পরিবহন থেকে পথে পথে আরও ২০ থেকে ৫০ টাকা নেয়া হয়। কিন্তু এই টাকা থেকে সমিতির ফান্ডে জমা পড়ে মাত্র ৪০ টাকা। আর টার্মিনাল ফি, স্ট্যাটার, কলারম্যান, কাউন্টার আরপিও বাবদ ব্যয় করা হয় ১৫০ টাকা।

হানিফ হোসেন ও ফিরোজুল ইসলামের পক্ষের হিসাব মতে, প্রতিদিন গাড়ি প্রতি আদায় হয় ৪ হাজার ২০০ টাকা। ব্যয় হয় ১ হাজার ৯০০ টাকা। এ হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। এ হিসাবে মাসে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার এবং বছরে ৩ কোটি ৪০ লাখ ৫৬ হাজার টাকার কোন হিসাব নেই। এই টাকা সমিতির সভাপতি আলহাজ গফফার বিশ্বাস, কার্যকরী সভাপতি শিবলী বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মজিবর রহমান আত্মসাৎ করেছেন।

গত ৮ বছর ধরে সমিতির নামে তারা এভাবে টাকা উত্তোলন করছেন এবং এর কোন হিসাব দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে হানিফ হোসেন ও ফিরোজুল ইসলামের পক্ষ গত ৩ ডিসেম্বর এবং ১২ ডিসেম্বর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু কোন সুফল না পেয়ে গত ২০ ডিসেম্বর থেকে পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে ২১ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করেছেন।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মজিবর রহমান বলেন, অনেক বছর ধরে এ নিয়মে অর্থ আদায় হয়ে থাকে। আমার কাছে মালিক সমিতির সদস্যরা সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন। আমি অভিযোগের বিষয়ে সভাপতিকে অবহিত করেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের অভিযোগের কিছুতো সত্যতা আছেই। এ বিষয়ে সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়ে মোবাইল রেখে দেন তিনি। কিন্তু সভাপতির মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

মিলন রহমান/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।