বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ
বেনাপোলে দুর্ঘটনায় পতিত ভারতীয় একটি ট্রাক আটকে রাখার প্রতিবাদে পেট্রাপোল-বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় বন্দর ব্যবহারকারীরা। এর ফলে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে এ পথে কোনো আমদানি-রফতানি হয়নি। সীমান্তের দুই পাশে শত শত পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকে আছে।
জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই ভারতীয় একটি ট্রাক (ডব্লিউবি-৫৭ এ ৬৪৮৪) বেনাপোল বন্দরে পণ্য আনলোড করে ভারতে ফিরে যাচ্ছিল। এ সময় ট্রাকটি চেকপোস্ট এলাকায় বড়আঁচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী সোনিয়া খাতুন (৬) নামের এক শিশুকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। এ ঘটনায় এলাকার লোকজন ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তায় নেমে আসে। পরে পোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ট্রাকটি আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পরে নিহতের পরিবারের সঙ্গে ও আদালতের নির্দেশ নিয়ে ট্রাকটি ফেরত নেয়ার চেষ্টা করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ট্রাকটি ফেরত দিতে টালবাহানা করেন। দীর্ঘদিনেও ট্রাকটি ফেরত না পেয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দেন। ফলে এ পথে কোনো আমদানি-রফতানি হয়নি। আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় সীমান্তের দুই পাশে শত শত পণ্য বোঝাই ট্রাক আটকে রয়েছে।
ভারতের পেট্রাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, ট্রাকটি বৈধ পথে কারপাশের মাধ্যমে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছিল। আদালতের মাধ্যমে ও নিহতের পরিবারের অনাপত্তির পর আমরা ট্রাকটি ফেরত নিতে বার বার কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বললেও তারা এ ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা করেনি। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে ট্রাকটি বেনাপোল পোর্ট থানার সামনে পড়ে আছে। গত ২ অক্টোবর বেনাপোল বন্দরে অগ্নিকাণ্ডে ভারতীয় এই ট্রাকটির সামনের অংশ পুড়ে যায়। কারপাশের মাধ্যমেই ট্রাকটি ফেরত দিতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন শিমুল জানান, বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারের সঙ্গে কথা বললে তিনি কারপাশের মাধ্যমে ট্রাকটি ভারতে যাওয়ার কথা বললেও চেকপোস্ট কার্গো শাখার কর্মকর্তারা তা মানছেন না।
বেনাপোল চেকপোস্ট কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ জানান, ট্রাকটি বৈধ কারপাশের মাধ্যমে এদেশে পণ্য নিয়ে এসেছিল। পরে ট্রাকটি একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। আদালতের নির্দেশে এখানকার এক ব্যক্তির জিম্মায় দেয়া হয়। কিন্তু ভারতে যাওয়ার কোনো অনুমতি তাতে নেই। এখন কারপাশও অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে। যাতে ট্রাকটি বৈধভাবে ভারতে ফেরত যেতে পারে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মো. জামাল হোসেন/আরএআর/এমএস