শার্শার পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মীদের মানবেতর জীবনযাপন


প্রকাশিত: ১১:৫৩ এএম, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬

যশোরের শার্শা উপজেলায় এলজিইডির অধীনে পল্লী সড়ক উন্নয়ন ও কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে কর্মরত ১৩৬ নারী কর্মী ঠিক মতো বেতন পান না বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাস্তা ঠিক রাখতে ২০১৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) অধীনে পল্লী কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়। এর আওতায় দেশ জুড়ে চলছে এ কাজ। কম মজুরি হলেও অভাবের তাড়নায় গ্রামের নারীরা এসব কাজ করছেন।

১৫০ টাকা বেতন বরাদ্দ থাকলেও তাদের দেয়া হয় ৯০ টাকা। প্রতি মাসের বেতন প্রতি মাসে পান না। ২-৩ মাসের বেতন বাকি থাকে সব সময়। এ প্রকল্পে পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের এলসিএসের ও স্লিপের ২৬ নারী-কর্মী বছরের ৩৬৫ দিন রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কাজ করেন। কিন্তু কর্মকর্তারা তাদের অনুপস্থিত দেখিয়ে বেতন কেটে নেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।   

শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১৩৬ নারী দুই-তিন বছরের চুক্তিতে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করছেন। এর মধ্যে এলসিএস প্রোগ্রামে (লেবার কন্ট্যাকটিং সোসাইটি) রয়েছেন ১৯ নারী ও একজন সুপারভাইজার, আরইআরএম-২ প্রকল্পে ১১০ জন নারী ও স্লিপ প্রোগ্রামে (সাসটেইনেবল রুরাল ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট) রয়েছেন ৬ জন নারী।

আরইআরএমপি-২ তে কর্মরত নারীরা সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি ভোগ করে। সকাল ৮টা থেকে ২টা পর্যন্ত তাদের কাজ করতে হয়। এলসিএস ও স্লিপ প্রোগ্রামে কর্মরত নারীদের সকাল ৮টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ৩৬৫দিন কাজ করতে হয়। কোন ছুটি নেই।

Pataka

উপজেলার বেড়ে নারানপুর গ্রামের তাজউদ্দিনের স্ত্রী নাজমা বেগম (২৩) বলেন, সহায়-সম্বল বিক্রি করে আমার স্বামী দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় গিয়ে চার বছর ধরে নিখোঁজ। কোলে দুই বাচ্চা রয়েছে। সংসারে আয়ের কোনো লোক নেই। তাই কম মজুরি হলেও ক্ষুধা মেটাতে এ কাজে এসেছি। ভোরে কাজে বেরিয়ে পড়ায় বাচ্চাদের পাশের বাড়িতে রেখে আসতে হয়। বাড়ি ফেরা না পর্যন্ত চিন্তা হয়। বেতন না পাওয়ায় গত ঈদে বাচ্চাদের জন্য কিছু কেনাকাটা করা হয়নি।

নারী কর্মী উর্মী বলেন, বছরে ৩৬৫ দিন কাজ করলেও নায্য মজুরি পাই না। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে তো আর কাজ করা যায় না। এ সময় বসে থাকলে বা আসতে দেরি হলে স্যারেরা অনুপস্থিত দেখিয়ে বেতন কেটে নেন। সামান্য বেতন যার প্রায় অর্ধেক চলে যায় গাড়ি ভাড়া ও হাত খরচে। সে বেতনও যদি ঠিক মতো না পাই, তাহলে আমরা বাঁচবো কী করে?

নমিতা দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ায় সংসারের হাল ধরতে হয়েছে আমাকেই। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। এতে দিনে বেতন পাই মাত্র ১৫০ টাকা। সে বেতনের ৯০ টাকা হিসেবে প্রতিমাসে আমরা পাই। বাকি ৬০ টাকা স্যারেরা কেটে রাখেন। কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তখন ওই টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে আমরা পাবো। এখন জিনিসপত্রের যে দাম তাতে ওই টাকায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হয়। মাসের বেতন মাসে পেলে উপকার হতো।

প্রকল্পের কমিউনিটি অর্গানাইজার আব্দুল হালিম জানান, প্রতিমাসে সময়মতো ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের কাছে কাগজপত্র পাঠানো হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে টাকা বরাদ্দ না হওয়ায় তাদের বেতন আটকে থাকে। ১৫০ টাকা বেতন হলেও দেয়া হয় ১০০ টাকা। ৫০ টাকা কেটে রাখা হয়। কেটে রাখা টাকা চাকরি শেষে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থেকে তারা তুলে নিতে পারবে।

তিনি বলেন, এ ছাড়া ফান্ড সাপেক্ষ টাকা পাওয়া যায়। আর এ প্রকল্পে নারীদের (এলসিএস ও স্লিপ) সরকারি কোনো ছুটি বরাদ্দ নেই। তাই সবদিন কাজ করতে হয়। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলে কর্মীরা সময় মতো কাজে না এসে ফাঁকি দেন। এতে মাসে গড়ে তাদের একদিন অনুপস্থিত দেখিয়ে বেতন কাটা হয়। যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানে।

মো. জামাল হোসেন/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।