এখনও স্বাচিপ নেতার দখলে সিভিল সার্জন পদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সিভিল সার্জন পদটি এখনও দখল করে রেখেছেন জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সাধারণ সম্পাদক ও আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহআলম।
মঙ্গলবারও ডা. শাহআলম দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আবু ছালেহ মো. মুসা খানকে। এতে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় থেকে গত ২৭ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু ছালেহ মো. মুসা খানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জনের চলতি দায়িত্বের আদেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এতে ৩১/১২/২০১৬ তারিখের পর যোগদান করতে বলা হয় তাকে। সেই আলোকে মুসা খান সোমবার সিভিল সার্জন অফিসে যোগদান করতে যান। কিন্তু দায়িত্বে থাকা সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহআলম মুসা খানের যোগদান এড়াতে এদিন অফিসে অনুপস্থিত থাকেন। পরে মুসা খান স্বাস্থ্য সচিবের কাছে তার যোগদানপত্র পাঠিয়ে দেন।
তবে মঙ্গলবার সিভিল সার্জন অফিসে ডা. শাহআলম ও ডা. মুসা খান একসঙ্গে বসে ছিলেন। অবশ্য সিভিল সার্জনের চেয়ারে বসা ছিলেন ডা. শাহআলম। তবে মঙ্গলবারও ডা. মুসা খানকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি ডা. শাহআলম।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডা. শাহআলম বলেন, কেন্দ্রীয় স্বাচিপের নির্দেশে জেলা স্বাচিপ আমাকে সিভিল সার্জনের চেয়ারে বসিয়েছে। মুসা খানের পোস্টিং হওয়ার খবর পেয়ে জেলার স্বাচিপের নেতারা তাৎক্ষণিক সভা করেন। ওই সভায় মুসা খান স্বাচিপের সদস্য নন এবং ড্যাবের কর্মী ছিলেন বলে আলোচনা হয়।
এরপরই জেলার স্বাচিপের নেতারা কেন্দ্রীয় স্বাচিপ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হলে প্রজ্ঞাপনটি মোডিফাই করা হবে বলে কেন্দ্রীয় নেতাদের আশ্বাস দেন মন্ত্রী। বর্তমানে মন্ত্রী সিঙ্গাপুরে থাকায় তিনি দেশে আসলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।
তবে ডা. মুসা খান বলেন, আমি স্বাচিপ না করলেও কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নই। সচিব কমিটির করা ফিটলিস্ট দেখে আমাকে পোস্টিং দেয়া হয়েছে। আমার ৩২ বছরের চাকরি জীবনে কোনো স্পট নেই। আমি অতি সাধারণ একজন মানুষ।
তিনি আরও বলেন, আমার চাকরি আর দুই বছরের মতো আছে। চাকরির এ শেষ সময়ে এসে প্রমোশন পেয়েও ড্যাবের সঙ্গে যুক্ত অভিযোগ এনে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. হাসিনা আক্তার গত ২৯ ডিসেম্বর অবসরজনিত ছুটিতে যান। তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে ওদিন আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহআলমের কাছে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন।
সাধারণত সিভিল সার্জন কোথাও গেলে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকেই দায়িত্ব দেয়া হয়। এক্ষেত্রে ডা. মুসা খান সদর উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। এ নিয়ে সোমবার ‘স্বাচিপ নেতাদের কাছে উপেক্ষিত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন’ শিরোনামে জাগো নিউজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
আজিজুল সঞ্চয়/এএম/আরআইপি