গণশিক্ষামন্ত্রীর নামে স্কুল!


প্রকাশিত: ১১:২৩ এএম, ০৭ জানুয়ারি ২০১৭

দিনাজপুরে কোয়ালিটি অ্যাডুকেশন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও সরকারি অনুদানে প্রতিষ্ঠিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলটি এখন ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান ইনস্টিটিউট’ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার শুক্রবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নামকরণ করেন।

এদিকে কোয়ালিটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলটি নাম পরিবর্তন করায় বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, স্কুলটির নাম পরিবর্তনের কারণে তারা ছেলে-মেয়েদের অন্য স্কুলে ভর্তির চেষ্টা করছেন। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ টিসি না দেয়ায় ছেলে-মেয়েদের বাইরে ভর্তি করা যাচ্ছে না। যখন ফাউন্ডেশনের আওতায় ছিল তখন স্কুলটিতে ফাউন্ডেশনের একটি নিয়ম ছিল, এখন ফাউন্ডেশন নেই- এ কারণে শিক্ষার মান কি হবে, তা নিয়ে তারা শঙ্কিত।

কোয়ালিটি অ্যাডুকেশন ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক আব্দুল জলিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে তৎকালীন ফুলবাড়ীর ইউএনও শামিম আক্তারের প্রচেষ্টায় ও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাবেক শিক্ষা সচিব শহিদুল্লাহর আন্তরিকতায় উপজেলা চত্বরের কোলঘেঁষে চকচকা মৌজায় অর্পিত তালিকাভুক্ত (সরকারি মালিকানাধীন) ৬৫ শতক জমির ওপর স্কুলটি প্রতিষ্ঠা হয়।

news

শুরুতে স্কুলটিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা কম থাকার কারণে শিক্ষকদের বেতনসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ফাউন্ডেশন নিয়মিত অনুদান দিয়ে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছে, বর্তমানে স্কুলটি একবারে প্রতিষ্ঠিত। স্কুলটির বর্তমান অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম অনিয়ম করার জন্য ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়। এ কারণে স্কুলটির বর্তমান অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম নিজের অনিয়ম-দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে এর নাম পরিবর্তন করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত স্কুলটিতে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ ৩৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অনুদানের অর্থে স্কুলটির অবকাঠামো গড়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে স্কুলটির অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফাউন্ডেশনের পাঠ্যপুস্তক নিম্নমানের, নেই কোনো নীতি। তারা বেতন বাবদ দু-তিন মাস পরপর মাত্র ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দেয়। আর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকা দিয়েই চলে স্কুলটি। এ কারণে স্কুলটিকে ফাউন্ডেশনের হাত থেকে বের করার জন্য নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

স্কুল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে স্কুলটিতে ৪৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল। প্রতি শিক্ষার্থীর মাসিক বেতন ৪০০ টাকা, ভর্তি ফি এক হাজার টাকা থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া রয়েছে সেশন ফি, কোচিং ফি সব মিলে স্কুলটি এখন প্রতিষ্ঠিত। এ স্কুলটির নাম পরিবর্তন করায় এলাকার সচেতন মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এমদাদুল হক মিলন/এআরএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।