ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট


প্রকাশিত: ১০:২১ এএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত যানজট অব্যাহত রয়েছে। এতে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলের পর মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়া ও বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনার কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ ।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মির্জাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (তদন্ত)বহন করা গাড়িকে মহাসড়কের জামুর্কী নামক স্থানে টাঙ্গাইলগামী একটি ট্রাক সামনে থেকে ধাক্কা দিলে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে।

যানজট মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে বাসাইলের বাঔখোল এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থায়ী হয়। তবে যানজট থেমে থেমে রাতভর থাকতে পারে বলে হাইওয়ে গোড়াই থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কিবরিয়া আশঙ্কা করেছেন।

Janjot
পুলিশ, যাত্রী, শ্রমিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে মহাসড়কের যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সন্ধ্যার পর থেকে মহাসড়কে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া রাত সাড়ে ৯টার দিকে মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলা বংশাই ব্রিজের উপর একটি বাস ও মির্জাপুর উপজেলার ধেরুয়া এলাকায় অপর একটি বাস বিকল হলে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। যানজট একপর্যায় বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থায়ী হয়। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন রাস্তা থেকে সরিয়ে নিলে রাতে থেমে থেমে যানচলাচল শুরু হয়।

তবে শুক্রবার সকাল ৮টার পর থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পুনরায় থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল দশটার দিকে চন্দ্রার জোড়াপাম্প এলাকায় মো. জাকির হোসেনের ঝুটের গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বেলা ১১টার পর যানবাহন কিছুটা চলাচল করলেও দুপুর ১২টার দিকে জামুর্কী নামক স্থানে রাস্তার পাশে থামানো পুলিশের গাড়িকে ধাক্কা দিলে যান চলাচল চন্ধ হয়ে তীব্র আকার ধারণ করে যানজট। দুপুরের পর থেকে পরিধি বেড়ে বাসাইলের বাঔখোলা থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

দুপুর ২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রেকারের সাহায্যে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে কিছুটা সময় গাড়ির চাকা ঘুরলেও ৩টার পর পুনরায় চাকা থেমে যায়। অধিকাংশ যানবাহনকেই ৩০ মিনিটের রাস্তা যেতে তিন ঘন্টা থেমে থাকতে হচ্ছে বলে চালকরা জানিয়েছেন।

Janjot
বগুড়া থেকে আলু ভর্তি ট্রাক নিয়ে আসা চালক মোশারফ হোসেন জানান, দুপুর ১২টার দিকে নাটিয়াপাড়া এলাকায় এসে যানজটে আটকা পড়েছেন।  ২০ মিনিটের রাস্তা প্রায় তিন ঘণ্টায় মির্জাপুর বাইপাস এলাকা পর্যন্ত আসতে পেরেছেন।

টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী প্রাইভেটকারের চালক আরজু মিয়া জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে যানজট লাগছে। তবে দুপুর ১টার দিকে মহাসড়কের কুর্ণী পৌঁছে যানজটে আটকা পড়েন। পাঁচ মিনিটের রাস্তা আসতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জাপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. বদিউজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনা ও রাস্তায় যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাঝেমধ্যেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. তুহিন খানকে বহন করা জিপটিকে টাঙ্গাইলগামী একটি ট্রাক সামনে থেকে ধাক্কা দিলে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ট্রাকটিকে আটক করেছে। এতে জিপের সামনের অংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে। তবে পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এস এম এরশাদ/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।