‘ন্যায্য অধিকার থেকে এক চুলও নড়বে না’


প্রকাশিত: ০১:০০ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রানা দাশ গুপ্ত বলেছেন, আগামী নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সঙ্গে মেলবন্ধন অথবা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনকারী এমন কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে তারা দলের সঙ্গে থাকবে কিনা ভাবতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথ থেকে তারা এক চুলও নড়বে না।

শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র চৌমুহনী গণমিলনায়তে আয়োজিত বাংলাদেশ ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের জেলা কমিটির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাড. রানা দাশ গুপ্ত বলেন, ৭২’র সংবিধান আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বর্তমানের এই সংবিধানে বাংলাদেশও আছে, পাকিস্তানও আছে। এ সংবিধানে ধর্মনিরপক্ষেতা যেমনি আছে, তেমনি গণতন্ত্রও আছে, আছে বঙ্গবন্ধু, আরো আছে পাকিস্তানের প্রেতাত্মা। এমন সংবিধানের জন্য আমার ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করিনি।

আজ হেফাজত ইসলামের সঙ্গে আপোষ করে সরকার মুক্তিযুদ্ধের ধারাকে পরিচালিত করতে চায়। অথচ এই হেফাজত ইসলাম সম্পর্কে আমাদের সকলের জানা আছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের প্রাক্কালে তারা ঢাকা অবরোধের নামে মুক্তিযুদ্ধের সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর অপচেষ্টা করেছিল। কিন্তু সে সময়ে কোনো রক্তপাতহীনভাবে তাদের ঢাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। এখন সেই হেফাজত আবার সুপ্রীমকোর্টের সামনের ভাস্কর্য সরানোর জন্য রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। আগামী ৬ থেকে এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কোনো পথে হাঁটবে।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন দেখেছি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মুক্তিযুদ্ধের সরকারের আমল ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক অপশক্তিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাড. পাপ্পু সাহার সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. এবিএম জাফর উল্যাহ, চৌমুহনী পৌরসভার মেয়র আক্তার হোসেন ফয়সাল, বাংলাদেশ ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, নোয়াখালী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিনয় কিশোর রায়সহ হিন্দু সম্প্রদায়ের কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ।

মিজানুর রহমান/এআরএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।