একদিন ভ্যান না চালালে চিন্তায় পড়েন শতবর্ষী কাচু মোহাম্মদ


প্রকাশিত: ০৬:১৫ এএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

ভিক্ষা করে বাঁচতে চান না। তাই জীবনের পড়ন্ত বিকেলে এসেও নিজে ভ্যান চালিয়ে খড় বিক্রি করে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন কাচু মোহাম্মদ। প্রায় শতবছরে এসেও থামেনি তার চলার গতি।

নিজের কোনো জমি নেই। বসতভিটায় ছোট্ট কুড়ে ঘর। যেখানে থাকেন সেটারও রেজিস্ট্রি পাননি আজও। জানেন না পরে কী হবে।

৯০ বছর বয়সে ভ্যান চালিয়ে কাচু মোহাম্মদ অজো পাড়া গায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খড় কিনেন। সেই খড় নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে ভ্যান চালিয়ে বিক্রি করেন। এতে সারাদিনে ১০০ কিংবা ১২০ টাকা আয় করেন। এই দিয়েই চলে সংসার, ওষুধপত্রসহ সবকিছু।

অসুস্থ থাকলে ওইদিন আয় বন্ধ হয়ে যায়। পরের দিন কীভাবে চলবে তা নিয়ে চিন্তায় পড়েন তিনি। এরপরেও বার্ধক্যের কাছে মাথা নত করেননি। ভিক্ষাবৃত্তিতে যাননি। বরং পরিশ্রম করে বেঁচে থাকতে চান দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর ইউপির বর্ষা গ্রামের কাচু মোহাম্মদ।

DINAJPUR

কথা হয় তার ছোট্ট কুঠিরে। কাচু মোহাম্মদ জানান, একটানা ৫০বছর ধরে ভ্যান চালিয়ে খড় বিক্রি করে আসছি। আমার এই বসত ভিটাটুকু কেনার জন্য স্থানীয় সাবেদ আলীর কাছে অনেকদিন আগে টাকা দিলেও আজও এটা আমাকে রেজিস্ট্রি করে দেননি। পরিশ্রম করে খেতে চাই কিন্তু এখন শরীরটাকে চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

তিনি জানান, আমার ১ ছেলে এবং ৪ মেয়ে। সব ছেলে মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। সবাই আলাদা আলাদা সংসার করে খাই। আমরা বুড়োবুড়ি এভাবেই জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। বয়স্ক ভাতা আমি পাই। কিন্তু আমার স্ত্রী নুরী বেগমকেও বয়স্ক ভাতা দেয়া হলে আমার জন্য ভালো হতো।

ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী তার স্ত্রীর বয়স এখন ৮১ বছর আর কাচু মোহাম্মদের ৯০ বছর। তবে কাচু মোহাম্মদ দাবি করেন তার বয়স একশ হয়েছে।

এমদাদুল হক মিলন/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।