কিছু সমস্যা সমাধান করলে ঠেঙ্গারচরে পুনর্বাসন সম্ভব
রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য নোয়াখালীর হাতিয়ার বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম চর ঠেঙ্গারচরকে বসবাসের উপযোগী করার ক্ষেত্রে বেড়িবাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণসহ বেশ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধান করা হলে সেখানে মানুষ বসবাস উপযোগী হবে।
বৃহস্পতিবার বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনে এমনটি উল্লেখ করেছেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বদরে মুনির ফেরদৌস।
এ ব্যাপারে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুব্রত কুমার দে তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জাগো নিউজকে জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে এই মুহূর্তে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে বেড়িবাঁধ ও আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, সুপেয় পানি এবং আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ বেশ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে।
চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানকল্পে সেখানে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে। তিনি নিজে ও সহকারী বন সংরক্ষক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী ঠেঙ্গারচর ঘুরে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন।
এর আগে গত ৯ ফ্রেব্রুয়ারি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব জসিম উদ্দিন জেলা প্রশাসক এবং বন কর্মকর্তা ওই চরে সরেজমিনে গিয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আমির হোসাইন চৌধুরী জানান, ২০১৩ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তি নং-পবম (ব:শা:-১)/৩২/২০১২/৪১৭ তাং ২৯-১০-২০১৩ খ্রি.) মূলে ঠেঙ্গারচরকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়।
চরে সুপেয় পানির কোনো ব্যবস্থা না থাকা, অধিকাংশ অঞ্চল প্রতিনিয়িত জোয়ারে নিমজ্জিত হওয়া এবং চরের উত্তর ও পশ্চিম দিকে ভাঙন অব্যাহত থাকায় সেখানে স্থায়ীভাবে জনবসতি গড়ে ওঠেনি।
তিনি আরও জানান, ওই চরে ৫ ধাপে বনায়ন করেছে বন বিভাগ। ২০১০-১১ অর্থবছরে ৫৬০ হেক্টর, ১১-১২ অর্থবছরে ৪০০ হেক্টর, ১২-১৩ অর্থবছরে ২০০ হেক্টর, ১৩-১৪ অর্থবছরে ৬০০ হেক্টর, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২০০ হেক্টর বনায়ন করা হয়। এখানে কেওড়া গাছ লাগানো হয়েছে। গাছগুলোর উচ্চতা ৪ থেকে ৮ ফুট।
কক্সবাজারে অবস্থানরত ও নিবন্ধিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে হাতিয়ার ঠেঙ্গারচরে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দেয়ার কথা ভাবছে সরকার। সম্প্রতি সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচরে পুনর্বাসনে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেয়ার নির্দেশ দেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমে আলোচনার ঝড় ওঠে।
এদিকে, গত ৮ ফ্রেব্রুয়ারি দুর্গম ঠেঙ্গারচর এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল জয়নাল আবেদীন।
পরিদর্শনকালে তিনি চরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি হেলিপ্যাড নির্মাণ, একটি জেটি নির্মাণ, গভীর নলকূপ নির্মাণসহ নানা বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার রেজাউল করিমকে দিকনির্দেশনা দেন।
এ সময় হাতিয়া উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী, হাতিয়া পৌরসভার মেয়র একেএম ইউছুপ আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার রেজাউল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) নবজ্যোতি খিসা, হাতিয়া থানা পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গোলাম ফারুক উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার পশ্চিম উপকূল হতে ৫ কিলোমিটার এবং হাতিয়া উপজেলা থেকে ২৫ কিলোমিটার পূর্ব দিকে মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় প্রায় ১১ বছর পূর্বে জেগে ওঠে বিচ্ছিন্ন এবং জনমানশূন্য দ্বীপ বা নতুন চর। জেলেরা ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৪.৫ কিলোমিটার প্রস্থ (প্রায় ১০ হাজার একর) এই চরের নাম দেয় ঠেঙ্গারচর।
অন্যদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঠেঙ্গারচরে রোঙ্গিাদের পুনর্বাসন করা ঠিক হবে না মর্মে সংবাদ প্রচার হলে হাতিয়ার সংসদ সদস্য আয়েশা আলী মানবিক কারণে এটিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। তিনি বলেন, তাদের জন্য চরটি বসবাস উপযোগী এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুলিশি ক্যাম্প বসানো হলে কোনো সমস্যা হবে না। তারা সাগরে মাছ শিকারসহ বিভিন্ন কৃষিকাজ ও পশুপালন করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।
মিজানুর রহমান/এআরএ/আরআইপি