বোরকা খুলতে স্কুলছাত্রীকে কান ধরে উঠবস (ভিডিও)


প্রকাশিত: ১২:৪৬ পিএম, ০৬ মার্চ ২০১৭

নলছিটিতে বোরকা পরে স্কুল যাওয়ার অপরাধে এক স্কুলছাত্রীকে নির্যাতন, শ্লীলতাহানি করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শ্লীলতাহানির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

জানা গেছে, স্কুল থেকে ফেরার পথে ওই ছাত্রীকে পৌর মেয়র তসলিম চৌধুরীর ভাতিজা রেজাউল চৌধুরী ও তার সহযোগীরা বোরকা খুলতে বাধ্য করেন। ওই ছাত্রী বোরকা খুলতে না চাইলে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়। সেই সঙ্গে ওই ছাত্রীকে পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন রেজাউল চৌধুরী। পাশাপাশি এসব দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করা হয়।

গত শুক্রবার (৩ মার্চ) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই স্কুলছাত্রীকে নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে এটি ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিওটি ভাইরাল হলে রেজাউলসহ ওই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অপরাধীকে আটক ও শাস্তির দাবিতে সর্বত্র ঝড় ওঠে। বরিশাল র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে রেজাউলসহ অন্যান্য অপরাধীকে আটকের চেষ্টায় নলছিটিতে অভিযান চালায়।

অবস্থা বেগতিক দেখে নলছিটি থানা পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শকের মাধ্যমে শুক্রবার সন্ধ্যায় রেজাউলকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে (৩ মার্চ) র‌্যাবের অভিযানের মুখে রেজাউল চৌধুরীকে আটক করা হলে গভীর রাতে রহস্যজনক কারণে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানায়, ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর র‌্যাবের হাত থেকে বাঁচাতে রেজাউলকে থানায় নিয়ে আটকের ‘নাটক’ সাজায় পুলিশ। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নলছিটি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-অপারেশন) একেএম সুলতান মাহমুদ ও ওসি (তদন্ত) সাখাওয়াত হোসেন তপু র‌্যাবের হাতে আটক থেকে রেজাউল চৌধুরীকে বাঁচাতে এ নাটক সাজান।

অভিযুক্ত রেজাউল নলছিটি পৌর মেয়র তসলিম উদ্দিন চৌধুরীর ছোট ভাই দুলাল চৌধুরীর ছেলে। তিনি নিজেকে শহর যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দফতর থেকে চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপকর্ম করছেন।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে রফাদফার মাধ্যমে রেজাউলকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

থানা সূত্রে জানা গেছে, রেজাউলের বিরুদ্ধে এক যুবলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টা মামলাসহ নলছিটি থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে।

রেজাউলকে আটকের ব্যাপারে নলছিটি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেজাউলকে থানায় আনা হয়। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগকারী না পাওয়ায় রেজাউলকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব বলেন, ছাত্রীকে নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে রেজাউল। তবে ভিকটিমের পরিচয় না পাওয়ায় তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।



মো. আতিকুর রহমান/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।