বর্ষবরণে ময়মনসিংহে ব্যাপক প্রস্তুতি
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ময়মনসিংহে ২৯তম পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ময়মনসিংহে বর্ষবরণ উদযাপন পর্ষদ। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও বর্ষবরণ উদযাপন পর্ষদ এবারের বর্ষবরণ উৎসবের প্রতিপাদ্য এনেছে-‘শেকড়ের সাথে আছি, হেঁটে যাবো শিখরের দিকে, বাঙালি চেতনাকে কারা করে ফিকে’।
আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ উদযাপন পর্ষদ আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রাটি স্টেশন রোড ট্রাফিক মোড় থেকে বের হয়ে সার্কিট হাউজ বৈশাখী মঞ্চে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী-শিক্ষকের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ২০ হাজার মানুষ আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের সবকিছু নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করবে।
বৈচিত্রপূর্ণ এ শোভাযাত্রায় আবহমান গ্রাম বাংলার গরু, ঘোড়ার গাড়ি,পশু-পাখি, কুঁড়েঘর, নৌকাসহ ঐতিহ্যের ৬০ রকম গ্রামীণ ঐতিহ্য ও পেশাকে স্থান দিতে প্রায় ৩শ সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিক্ষার্থী এক সপ্তাহ ধরে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। শোভাযাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পথে পথে চলবে লাঠিখেলা, থাকবে বর-কণে সাজ, রাজা-বাদশা, নাজির-উজিড়, মন্ত্রী-সিপাহী, সৈন্য-সামন্ত, অর্শ্বারোহী-পদাতিক যোদ্ধা, পাইক-বরকন্দাজসহ শতাধিক মানুষ। জেলেদের জীবিকার চিত্রে যুক্ত থ্কাবে একশ মানুষ। যাদের কেউ ছিপজাল টানছে, কেউ উড়ো জাল ফেলছে, কেউ পলো নিয়ে যাচ্ছে মাছ শিকারে, একদল যাচ্ছে কৈজাল-ঠেলাজাল নিয়ে। একইভাবে কেউ ঢেকিতে ধান বানছে, কেউ চাল ঝারছে, কেউ যাঁতায় ডাল ভাঙছে। স্থান পাবে বরযাত্রী-নাইওরী, বিয়ের গীত, নানান ধর্ম-বর্ণের গোত্রের বিয়ের আচার অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন পর্যায়। শোভাযাত্রায় ফুটে উঠবে বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষের জীবন-বৈচিত্র-যেমন রিকশাচালক, ভ্যানচালক, গোয়ালা, জেলে, মাঁঝি, তাঁতী, কামার-কুমার, ধুনকর, কাঁসারু, ধোপা, মুচী, নরসুন্দর, গাছি, করাতি, কুলিমজুরের। আরো থাকবে পালকি নিয়ে বেহারাদল-ঘটক-পুরোহিত-ধর্মযাজক-বৌদ্ধ ভিক্ষু-ইমাম দল, বেদেদল, বৈঞ্চব-বৈঞ্চবী, কলসি কাঁখে গাঁয়ের বধূ ও কৃষি কাজে ব্যবহার্য সামগ্রী নিয়ে কৃষাণ-কৃষাণীর দল। যা শহরবাসী তথা নতুন প্রজন্মকে উৎসাহী করে তুলবে।
গত রোববার শহরের মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বর্ষবরণ উদযাপন পর্ষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক আমীর আহম্মেদ চৌধুরী রতন।
এসময় কবি ফরিদ আহমেদ দুলাল ও প্রেসক্লাব সম্পাদক আতাউল করিমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এমএএস/আরআই