নিহত শিবিরকর্মী সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন
রাজশাহীর খড়খড়ি বাইপাস সংলগ্ন এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধারকৃত নিহত শিবিরকর্মী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হরতাল ও অবরোধ চলাকালে সরকারবিরোধী নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিন ধরে। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলাও দায়ের করে পুলিশ। তবে সে আত্মগোপনে থাকায় বহু চেষ্টা করেও গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয় পুলিশ।
দায়েরকৃত মামলাগুলোর মধ্যে ২০১৩ সালে ১ এপ্রিল নগরীর শালবাগান এলাকায় টহল পুলিশের ওপর হামলা এবং এসআই জাহাঙ্গীরকে মারধর করে তার সার্ভিস পিস্তল ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ছিল বহুল আলোচিত।
আরএমপি (মুখপাত্র) ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলমের সঙ্গে সোমবার রাতে জাগো নিউজকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাতকারে ঘটনাগুলো প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, ঘটনার দিন নিহত শিবিরকর্মী শহিদুল ও রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে শিবির ক্যাডাররা পুলিশের টহল গাড়িকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় গাড়ির ভেতরে থাকা বাকি পুলিশ সদস্যরা পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করলেও তৎকালীন বোয়ালিয়া মডেল থানায় কর্মরত এসআই জাহাঙ্গীরকে একা পেয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা চালায় শিবির কর্মী শহিদুল, তার ভাই শিবির নেতা জসিমসহ আরও কয়েকজন শিবির ক্যাডার।
তবে ছয় মামলার পলাতক আসামি শিবিরকর্মী শহিদুলের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, শিবিরকর্মী শহিদুল কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে, তার প্রকৃত কারণ বের করতে বর্তমানে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়গুলো গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।
প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে নগরীর নওদাপাড়া বাইপাস এলাকা থেকে শিবিরকর্মী শহীদুলের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শহীদুল নগরীর বড় বনগ্রাম এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে এবং জামায়াত পরিচালিত নগরীর নওদাপাড়াস্থ ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গার্ড পদে কর্মরত ছিলেন।
তবে রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক রায়হানুল পারভেজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেন, শনিবার রাত ২টার দিকে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গার্ড শহীদুল ইসলামকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।
এসএস/বিএ/আরআইপি