৪ চিকিৎসকে চলছে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স


প্রকাশিত: ০৮:১২ এএম, ২০ মার্চ ২০১৭

চিকিৎসক সংকটে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা ব্যাহত হচ্ছে।  উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা  দিচ্ছেন মাত্র চারজন চিকিৎসক। পদ খালি রয়েছে ৩২টি।

দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে স্থানীয় ক্লিনিক ও প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হচ্ছেন। সেই সঙ্গে হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত ওষুধ। আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, এক্সরে মেশিন থাকলেও তা অকেজো হয়ে পড়ে আছে বহুদিন। ল্যাব থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে তা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আসন সংখ্যা ৫০টি।  এই আসনের বিপরীতে ৯ জন কনসালটেন্ট ও  ২১ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা। অথচ রয়েছে মাত্র চারজন চিকিৎসক । কোনো চিকিৎসককে এখানে পোস্ট দিলেই নানা অজুহাতে  এখান থেকে বদলি হয়ে যান। গত এক বছর ধরে এভাবেই চলছে হাসপাতালটি। বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী আসে। রোগীদের সেবা দিচ্ছেন  মেডিকেল  অ্যাসিসটেন্ট। হাসপাতালের চারজন চিকিৎসক (আবাসিক মেডিকেল অফিসার) ডা. নাছির উদ্দিন, ডা. মেফতা, ডা. মাহবুবুল আলম ও ডা. আলী আশরাফ শিফট করে ডিউটি করছেন।

Jhenaidah

খোঁজ নিয়ে  জানা গেছে, হাসপাতালে দীর্ঘদিন যাবত এক্সরে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নষ্ট।  যা ঠিক করার কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এছাড়াও হাসপাতালে প্যাথলজি থাকলেও কোনো কর্মী না থাকায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বাধ্য হয়ে হাসপাতালের আশে-পাশে গজিয়ে ওঠা ক্লিনিক অথবা প্রাইভেট হাসপাতালে, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে রোগীদের নানা হয়রানি ও বাড়তি অর্থ  গুণতে হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে ডাক্তাররা ওষুধ লিখলেও হাসপাতালে তা পাওয়া যায় না। বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হয় বলে অভিযোগ রোগীদের।

মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাছির উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন যাবত হাসপাতালে এ সমস্যা। বিষয়টি নিয়ে বারবার সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানানো হয়েছে। অল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের চিকিৎসক দেয়া সত্যিই অসম্ভব। তার পরেও তারা চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের যতটুকু সম্ভব সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

মহেশপুর উপজেলা  স্বাস্থ্য ও পরিবাবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রফুল্ল কুমার জানান, চিকিৎসক সংকটের কারণে মহেশপুরে রোগীরা ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না।  প্রতিদিন দুজন ডাক্তার জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা দিচ্ছেন। চিকিৎসক সংকটের কারণে বিভিন্ন ইউনিয়নের সাব সেন্টার থেকে মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট নিয়ে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিস্ট দফতরে চিঠি দেয়া হয়েছে।  কিন্তু এখনো কোনো চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়নি।

আহমেদ নাসিম আনসারী/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।