এমন হয় জীনের বাদশার বর্বরতা!


প্রকাশিত: ০১:৫৭ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০১৫

টাঙ্গাইলে কথিত জীনের বাদশা মো. সবুজ মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার ভোরে শহরের পূর্ব আদালতপাড়া থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার সহযোগী শামীম হোসেনকেও আটক করা হয়েছে।

শামীম ধনবাড়ি উপজেলার বলিয়াবাড়ি গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। কথিত জীনের বাদশা সবুজও একই উপজেলার চর ভাতকুড়া গ্রামের মো. আমীর হামজার ছেলে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ তিন হাজার টাকা, টিস্যু পেপার, একটি টুপি ও কয়েকটি লিফলেট উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলার বলিয়াবাড়ির রিকশা চালক হাসান আলীর মেয়ে শাহীদা বেগমের বিয়ে হয় একই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে। আগের স্ত্রী, তিন সন্তান রেখে মারা গেলে দ্বিতীয় বিয়ে করেন হাই। টাঙ্গাইল পৌরসভার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি আব্দুল হাই জেলা শহরের ঈদগাহ মাঠ এলাকায় ভাড়া বাসায় স্বপরিবারে থাকতেন। প্রথম পক্ষের বড় ছেলে শামীম হোসেন, সৎ মা ও ভাইবোনের সঙ্গে থেকে টেক্সটাইল কলেজে লেখাপড়া করেন। শামীমের সঙ্গে দুই মাস আগে পরিচয় হয় ধনবাড়ি পৌরসভার ছত্রপুর চরভাতকুড়া গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে জীনের বাদশা সবুজ মিয়ার সাথে।

এক পর্যায়ে সবুজ মিয়া শামীমের পরিবারকে অলৌকিকভাবে পাঁচ কোটি টাকা এবং পরীর সাথে বিয়ে করানোর প্রস্তাব দেন। এজন্য গত ৬ মার্চ রাতে বাসায় শামীমকে গায়ে হলুদ দিয়ে সাজানো হয়। সবুজ শামীমকে সারা রাত যন্ত্রমন্ত্র পড়ান। পরদিন শামীমের সৎ মা শাহিদাকে নির্দেশ দেয়া হয় স্বপরিবারে এক সপ্তাহ ভিক্ষা করার জন্য। পরীকে বধূ হিসেবে পেতে এবং ৫ কোটি টাকার লোভে পরিবারের সকলে মিলে টাঙ্গাইল শহরে এক সপ্তাহ ভিক্ষা করে বেড়ান তারা।

প্রত্যেক দিন আদায় হওয়া ভিক্ষার প্রায় বারশো টাকা সবুজের হাতে তুলে দেয়া হতো। এরপর সবুজ আরো ২০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান। শাহীদা বেগম রিকশা চালক বাবার মাধ্যমে সুদে ২০ হাজার টাকা জোগাড় করে দেন। এরপর ৭০ ঘাটের জল, পাঁচশো প্রজাতির বৃক্ষ পাতা সংগ্রহ করানো হয়।

সর্বশেষে নিষ্ঠুর শর্ত। চার বছরের ছোট্ট শিশু বায়েজীদের পুরুষাঙ্গের চামড়া লাগবে। গত ২০ মার্চ রাতে বায়েজীদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে তার পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ ব্লেড দিয়ে কাটা হয়। শিশু বায়েজিদ যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে। জ্ঞান ফিরলে কান্নাকাটি করলে তার দুটি হাত ও পা ভেঙে দেয়া হয়। গত ২ এপ্রিল সবুজ বায়েজীদের শরীরের অন্তত দশ জায়গা ফুটো করে রক্ত নেন।

এসব দ্রব্য একত্রিত করে ২০ এপ্রিল কালী সাধন করবেন সবুজ। আর সেদিনই মিলবে ৫ কোটি টাকা ও বধূরূপি সুন্দরী পরী। ব্যাপক রক্তক্ষরণ হওয়ায় এবং হাত-পা ভেঙে ফেলার যন্ত্রণায় শিশু বায়েজীদ কান্নাকাটি করতে থাকলে তার মুখ কসটেপ দিয়ে বন্ধ রাখা হয়। শরীরে প্রচণ্ড জ্বর উঠলে মা শাহীদা বেগম সুযোগ বুঝে বায়েজীদকে নিয়ে বাসা থেকে পালিয়ে তার বাবার বাড়ি চলে আসেন। আর তখনই ঘটনা জানাজানি হয়। এরপর শাহিদা সবুজ মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

টাঙ্গাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাহালুল খান বাহার জাগো নিউজকে জানান, আটকদের জেলহাজতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় শাহীদা বেগম বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আটকরা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষদের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করে আসছিলেন।

এমজেড/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।