কুয়াকাটা উপকূলে বাড়ছে লবণাক্ততা


প্রকাশিত: ০৪:০৮ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০১৫

সাগর সৈকত কুয়াকাটায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা ক্রমশই গ্রাস করছে সৈকতের লেম্বুচরের সংরক্ষিত সবুজ বনাঞ্চল। পানি ও মাটিতে লবণাক্ততা এবং তাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় মরে যাচ্ছে উপকূলীয় গাছপালা। এই দাবি করেছেন খোদ গবেষকরা। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে উপকূলের বনভূমি, পরিবেশ জীববৈচিত্র্য ও কৃষি ক্ষেত্রে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে বলে তারা মনে করছেন।

দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে উপকূলীয় এলাকায় গবেষণা কাজে নিয়োজিত সিডিএমপি`র গবেষক একেএম তারিকুল ইসলাম খান জাগো নিউজকে বলেন, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় সমুদ্রের পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সূর্যের তাপও তীক্ষ্ণ হয়েছে। ফলে সবুজ বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুয়াকাটা উপকূলের নদ-নদী ও সমুদ্রে গত ১০ বছরের তুলনায় বর্তমানে লবণাক্ততার পরিমাণ অনেক বেশি। বর্ষা শুরু হওয়ার আগে এ সময়টাতে জেলেরা ৭-৮ দিনের বেশি দিন সমুদ্রে গিয়ে অবস্থান করতে পারছেন না।

গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার বিষয়ে কুয়াকাটা কচ্ছপখালী এলাকার জাহাঙ্গীর মাঝি জানান, সমুদ্রের পানিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্রে ৭/৮ দিনের বেশি অবস্থান করতে গেলে শরীরে এক ধরনের ফোস্কা পড়ে যায়। এর সঙ্গে মাছের আকালও দেখা দিয়েছে। জাহাঙ্গীর মাঝির মতো এমন দাবি বহু জেলের।

অন্যদিকে উপকূলীয় কুয়াকাটা এবং এর আশপাশের এলাকার কৃষি জমিতে ফলন অপেক্ষাকৃত কমেছে বলে স্থানীয় কৃষকরা দাবি করেছেন।

কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজ সংলগ্ন কৃষক লিটন জমাদার মনে করেন, কৃষি জমিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত সার-ঔষধ প্রয়োগ করেও আগের মত ফলন পাচ্ছি না।

এখানকার কৃষকরা মনে করছেন, অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি এবং আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের ফলে উপকূলীয় জমিতে উৎপাদন কমে গেছে। লবনাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় দুই-তিন ফসলি জমিগুলো এখন এক ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে।

সিডিএমপি`র আরেক গবেষক মো. শওকত ওসমান জানিয়েছেন, গ্রীন হাউস প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রের পানির উচ্চতা ও লবণাক্ততা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে উপকূলের বনভূমি, পরিবেশ ও কৃষি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

এদিকে উপকূলীয় সবুজ বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পেছনে বনবিভাগের কর্মকর্তারা ভূমি ক্ষয়, পানি ও আবহাওয়ায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি, পলির বদলে গাছের গোড়ায় বালু জমে গাছের শ্বাসমূল বন্ধ হওয়াকে দায়ী করেছেন।

কুয়াকাটার লেম্বুচর ফরেস্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাশ চক্রবর্ত্তী মনে করেন, বনে লবণাক্ততা এত বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, আগের যেকোন সময়ের তুলনায় সেটি ব্যাপক। পাশাপাশি তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং অনাবৃষ্টির ফলে ছোট ছোট বহু গাছ মরে যাচ্ছে।

মহিপুরের বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন এ প্রসঙ্গে জাগো নিউজকে বলেন, সৈকতের কোল ঘেষে গড়ে তোলা কুয়াকাটা (ইকোপার্ক) উদ্যানের অনেকাংশ ইতোমধ্যে বালুতে ঢেকে যাওয়ায় অসংখ্য গাছ মরে গেছে।

এমজেড/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।