সাভার-আশুলিয়া যেন অপরাধের ঘাঁটি


প্রকাশিত: ০২:২৬ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০১৫

অপহরণ, মাদক, ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি, পোশাক শ্রমিকদের ধর্ষণ এবং হত্যা সংগঠনের নিরাপদ জোন যেন সাভার। অপরাধ জগতের এমন কোনো ঘটনা নেই যা এ এলাকায় ঘটে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিসংখ্যান মতে, গত চার মাসে ১০টি বড় ধরনের ঘটনা ঘটেছে সাভার ও আশুলিয়া এলাকায়। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ব্যবসায়ীসহ নিরীহ মানুষ। লুট হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পদ। তবু যেন থামছে না।

অপরাধীরা স্বর্গরাজ্য হিসেবে এই শিল্প এলাকাকে বেছে নিচ্ছেন। আর নানা কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাগালের বাইরে সাভারের পরিস্থিতি। সর্বশেষ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় আশুলিয়ার বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনায় দুই ডাকাত ও ব্যাংকের ম্যানেজারসহ প্রাণ হারায় আটজন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা দুইজনকে গণপিটুনি দেন।

এর আগে ১৮ এপ্রিল সাভারের ভাকুর্তা বটতলা এলাকার হিন্দুপাড়া গ্রামে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গ্রামে বেশ কয়েকটি বাড়িতে ১০-১২ জন ডাকাত হানা দিয়ে লক্ষাধিক নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় দুই ডাকাত গণধোলাইয়ে মারা যান। তবে সেখানেও পুলিশ ছিল নিষ্ক্রিয়।

এ মাসের ১১ তারিখ শুক্রবার আশুলিয়ায় মনির মণ্ডল নামে এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা করে ডাকাতরা। বাড়ির সবাইকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে ফাঁকা গুলি করে পালিয়ে যায় ডাকাত দল। ঘটনা শেষে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

গত জানুয়ারিতে এক প্রহরীকে বেধে সাভারের ইস্ট-ওয়েস্ট গার্মেন্টসের প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল লুট করে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ১৫ ডাকাতকে আটক তাদের পরোক্ষ কোনো সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ।

সাম্প্রতিক ডাকাতি-ছিনতাই ছাড়াও সাভার ও আশুলিয়া মহাসড়কে প্রতিনিয়ই ঘটছে ডাকাতির ঘটনা। এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা জাগো নিউজকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মর্যাদার একজন এসব ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কখনোই পুলিশের নাগালের বাইরে ছিল না। জনগণের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সর্বদা সচেষ্ট থাকে। ডাকাতির ঘটনার পাশাপাশি ডাকাতদের গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটে। মালামাল উদ্ধারের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি পুলিশের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। তবে পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা করছে পুলিশ।’

এলাকাবাসীরা বলছেন, প্রতিদিনই নানা অপরাধমূলক ঘটনার সাক্ষী হতে হচ্ছে তাদের। সন্ত্রাস, চাদাবাজি কী হচ্ছে না এখানে। এমনকি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন যে পোশাক শ্রমিকরা, তারাও এখানে নিরাপদ নয়। তারাও হত্যার শিকার হচ্ছেন। ধর্ষণ করা হচ্ছে তাদের।

এআর/বিএ/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।