কুয়াকাটায় বাড়ছে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকি
অপরিণত বয়সে বিয়ে ও সন্তান ধারণের ফলে উপকূলীয় কুয়াকাটায় মাতৃত্বকালীন ঝুঁকি ও নবজাতকের স্বাস্থ্য চরমভাবে ভেঙে পড়েছে।
কুয়াকাটার তিন`শ পরিবারের উপর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শেকড়ের পরিচালিত এক জরিপ থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
সেখানে বলা হয়েছে, গত এক বছরে এ অঞ্চলের অন্তত ২৪ শিশু প্রসবকালীন মৃত্যুর শিকার হয়েছে। এসব অকাল মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও কুসংস্কারের কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে না যাওয়া, স্থানীয় অদক্ষ ধাত্রীর ওপর নির্ভরশীলতাকে দায়ী করা হয়েছে। এমনকি অপরিণত বয়সে মা হতে যাওয়া এসব প্রসূতি ও নবজাতকের পুষ্টিহীনতার কথাও উল্লেখ করেছেন তারা। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে স্থানীয় ধাত্রীদের দ্বারা ক্ষতির শিকার হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিতে গিয়ে প্রসূতিকে জীবন শঙ্কার মধ্যে ফেলে দেওয়ার কথাও ওই সংস্থাটির জরিপে তুলে ধরা হয়। এতেও অন্তত ১৭ জন মায়ের প্রসবকালীন মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে মাতৃত্বকালীন ঝুঁকি কমাতে সরকার ব্যাপক প্রচার চালালেও নানা প্রতিবন্ধকতার ফলে এর সুফল পৌঁছেনি অজ্ঞতার শিকার ওই পরিবারগুলোতে।
কুয়াকাটার জেলে পল্লির ছালেহা বেগম এর অন্যতম উদাহরণ। ৩২ বছর বয়সের ছালেহা বেগমের ৪ সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ের বয়স এখন ১৫। অপুষ্টির শিকার ছালেহা বেগমের মেয়ে রোকসানার জন্য তার বাবা মোশারফ হোসেন ইতোমধ্যে পাত্র খুঁজছেন। বার্ধক্যের ছাপ পড়া ছালেহাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি তার মেয়েকেও বাল্য বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা ঠেকানো যাবে কিনা এ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন গ্রামের সচেতন ব্যক্তিরা।
ছালেহাদের মতো অসংখ্য উদাহরণ মেলে উপকূলীয় কুয়াকাটা এবং এর আশেপাশের এলাকায়। ছালেহা বেগমের স্বামী জেলে মোশারফ হোসেন জানান, পরিবারের সিদ্ধান্তে অপরিণত বয়সে তাদের বিয়ে হয়েছে।
ধর্মীয় প্রতিবন্ধকতা ও কুসংস্কারের কথা স্বীকার করে মোশারফ বলেন, ‘হুনছি পরিবার পরিকল্পনা নেওয়া নাকি ধর্মে মানা করছে, হ্যার লইগ্যা মুই কোনো ডাক্তারের কাছে যাই নাই।’ এ্যাহন মোর চাইড্যা (চার) গুরাগারা (সন্তান) অইছে। অভাবের সংসারে বড় মাইয়াডারে পড়াইতে পারি নাই। চিন্তা হরছি বিয়া দিয়া দিমু।’
সব মিলিয়ে কুয়াকাটা অঞ্চলের মাতৃত্বকালীন ঝুঁকি ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সেবার বেহাল অবস্থা নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ এখনই না ভাবলে ভয়াবহতার দিকে এগুতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ওই জরিপ সংস্থাটি।
এ প্রসঙ্গে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম ফরহাদ জাগো নিউজকে জানান, উপকূলীয় মাতৃত্বকালীন ঝুঁকি ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি নিকট ভবিষ্যতে ভাল অবস্থানে পৌঁছাবে।
এসএস/এআরএস/পিআর