২৯ মাসেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি, নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ


প্রকাশিত: ১১:৪২ এএম, ২৬ এপ্রিল ২০১৭

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক মেয়াদের কমিটি গঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর। কিন্তু সম্মেলনের পর ২৯ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন হয়নি।

কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন হবে তাও পরিষ্কার নয়। আগামী সম্মেলনের দিন ঘনিয়ে আসলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন না হওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতারা আন্তরিকভাবে সক্রিয় হচ্ছে না বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। এতে ক্ষোভ বাড়ছে নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের মধ্যেও। পদ না থাকায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন অনেকেই।

দীর্ঘ ৯ বছর পর ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর মির্জাপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে স্থানীয় সাংসদ মো. একাব্বর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মীর শরীফ মাহমুদ পুনরায় মনোনীত হন।

এছাড়া নতুন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবেন বলে সম্মেলনে জানানো হয়।

সম্মেলনের পরপরই ৬৭ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি অনুমোদনের জন্য টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠানো হয়।

কিন্তু দীর্ঘ ২৯ মাস পেরিয়ে গেলেও কমিটি অনুমোদন হচ্ছে না বলে জানা গেছে। আগামী সম্মেলনের দিন ঘনিয়ে আসলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন না হওয়ায় নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ফলে দলের কর্মসূচিতে অনেক নেতার অংশগ্রহণ কমে গেছে।

প্রস্তাবিত কমিটির শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান তালুকদার রাজীব বলেন, দলে পদ না থাকলে দায়িত্ব নিয়ে কেউ কাজ করতে পারেন না। কেউ কেউ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। আবার কেউ কেউ সক্রিয় হয়েছেন।

উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মনোনয়ন না দেয়ায় ৭ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন না হলে সাংগঠনিক কার্যকলাপ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলে সাংগঠনিক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন প্রস্তাবিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান সিদ্দিকী।

প্রস্তাবিত কমিটির অপর সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ওয়াহিদ ইকবাল বলেন, সাধারণত সম্মেলনের পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে এত বেশি সময় লাগে না। কমিটি অনুমোদন না হওয়াতে দলীয় সভা, বর্ধিত সভা, কার্যকরী কমিটির সভা করতে সমস্যা হচ্ছে। কমিটি অনুমোদনের বিষয়ে মঙ্গলবার টাঙ্গাইলে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র ও প্রস্তাবিত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সাহাদৎ হোসেন সুমন বলেন, স্থানীয় এমপি একাব্বর হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলীয় কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ বলেন, কী কারণে কমিটি অনুমোদন হচ্ছে না, তা জানি না। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছি। এতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। প্রতিদিনই বিভিন্ন ওয়ার্ড কিংবা ইউনিয়নের নতুন কমিটি গঠিত হচ্ছে। নেতা-কর্মীরা দলীয় কাজ করছেন।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে ২৯ মাসেও মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি অনুমোদন না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে সরাসরি এ প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, চলতি মাসের দুই তিন দিনের মধ্যেই কমিটি অনুমোদন দেয়া হবে।

এস এম এরশাদ/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।