মা ও মেয়ে হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন
বরিশালে মা ও মেয়েকে হত্যার পর মরদেহ গুমের মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন ও অপর দুই আসামিকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক দীলিপ কুমার ভৌমিক এ রায় ঘোষণা করেন।
আসামি বাদল ও সুজনের অনুপস্থিতিতে দুটি ধারার একটিতে যাবজ্জীবন দণ্ড ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাস এবং অপর ধারায় ৩ বছরের দণ্ড ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের দণ্ডাদেশ দেয়া হয়।
এছাড়া অপর দুই আসামি ইসাহাক আলী ও সিরাজকে ৩ বছরের দণ্ড ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের দণ্ডাদেশ দিয়েছেন ট্রাইবুনাল।
অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে লায়লা বেগম ও হাকিম আলীকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।
এছাড়া মামলার আসামি লুপা, লিটন, লিখন ও আলী হোসেনের মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। মামলা চলাকালিন সময় আসামি হাবিবুর রহমান মৃত্যুবরণ করায় তার নাম নথি থেকে বাদ দেয়া হয়।
ট্রাইবুনালের বিশেষ পিপি অ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর মামলার নথির বরাত দিয়ে জানান, পটুয়াখালী গলাচিপার ডাকুয়া সাগরদী সড়কের বাসিন্দা শাহিনুর দীর্ঘদিন বন্দরের হাবিবুর রহমানের বাড়িতে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে থাকা অবস্থায় হাবিবুর রহমানের ছেলে লিটন তালুকদারের নির্দেশে প্রতিবেশী সিরাজ গৃহপরিচারিকা শাহিনূরকে ধর্ষণ করতেন এবং মোবাইলে ছবি তুলতেন। শাহিনূর গর্ভবর্তী হলে সিরাজের বিরুদ্ধে শাহিনূরের মা নীলুফা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। সিরাজ মামলা থেকে রেহাই পেতে শাহিনূরকে বিয়ে করেন। ওই ঘরে কন্যা সন্তান সেলিনার জন্ম হয়।
পরবর্তীতে সিরাজ সুযোগ বুঝে শাহিনূরকে তালাক দেন। এরপর পারিবারিকভাবে শাহিনূরের সঙ্গে অপর এক ব্যক্তির বিয়ে হয়। এরপর পূর্বে মোবাইলে ধারণ করা ছবি ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে লিটন তালুকদার ও হাকিম আলী শাহিনূরকে ধর্ষণ করতেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০০৩ সালের ২৪ মে ৭ মাসের অন্তসত্ত্বা শাহিনূর ও তার শিশু সন্তান সেলিনাকে ট্রলারযোগে নিয়ে যান আসামিরা। এরপর তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর পটুয়াখালীর রমনাবাদ নদী থেকে অন্তসত্ত্বা শাহিনূরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু অদ্যাবধি শিশু সাহানার কোন সন্ধান মেলেনি।
এ ঘটনায় ২০০৩ সালের ১ জুন শাহিনূরের মা নিলুফা বেগম বাদী হয়ে হাবিবুর রহমান, তার মেয়ে লুপা তালুকদার, ছেলে লিটন তালুকদার ও লিখন তালুকদার এবং সুজন, লায়লা বেগম, হাকিম আলী, রফিকুল ইসলাম বাদল, আব্দুর রহমানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
একই বছরের ৭ জুলাই তদন্তকারি কর্মকর্তা সকল আসামিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট প্রদান করেন।
এরপর দীর্ঘদিন মামলাটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত ছিল। ২০১১ সালে মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে বরিশাল বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক ওই রায় দেন। রায় ঘোষণাকালে শুধুমাত্র আসামি ইসাহাক আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এমজেড/পিআর