কক্সবাজারে শিশু ধর্ষণের দেড়যুগ পর আসামির যাবজ্জীবন
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সাত বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দেড়যুগ পর আসামি ইকবাল হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়, অনাদায়ে ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা করেছেন বিচারক।
সোমবার (১১ মে) বিকেলে শিশু সহিংসতা অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল কক্সবাজারের বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইকবাল হোসেন (৪৩) চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের উত্তরপাড়ার ছৈয়দুল হক মেম্বারের ছেলে।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ছলিমুল মোস্তফা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ সালের ২৪ জুলাই রাত ৯টার দিকে উত্তর খুটাখালীর গর্জনতলী এলাকার এক বিয়ের মেহেদি অনুষ্ঠান দেখতে যায় সাত বছর বয়সী মেয়েটি। এসময় প্রতিবেশী ইকবাল হোসেন শিশুটিকে তার মা ঘরে ডাকছে বলে কৌশলে সঙ্গে নেয়। এরপর হাতে টাকা দিয়ে বিয়েবাড়ির পেছনে হলুদখেতে নিয়ে মুখ চেপে ধরে যৌন নিপীড়ন চালায়।
এতে ওই শিশুর যৌনাঙ্গে মারাত্মক আঘাতসহ প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই বছরের ২৭ জুলাই শিশুটির মা বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় ইকবালের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন।
একই বছরের ২১ অক্টোবর আসামি ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। মেডিকেল প্রতিবেদনেও ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছলিমুল মোস্তফা বলেন, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, ভিকটিমের ২২ ধারার জবানবন্দি, মেডিকেল প্রতিবেদন এবং সাক্ষীদের জেরা-জবানবন্দি পর্যালোচনায় আসামি ইকবাল হোসেনকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় ইকবাল হোসেনের বয়স ছিল ২৫ বছর, এখন ৪৩। তার কাছ থেকে আদায় করা ৫০ হাজার টাকা ভিকটিমকে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ে শিশুটির পরিবার ও রাষ্ট্র সন্তুষ্ট।
সায়ীদ আলমগীর/বিএ