অবশেষে বদলি হলেন বিতর্কিত ওসি আলমগীর


প্রকাশিত: ০৩:০৫ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৫

অবশেষে আরএমপির বোয়ালিয়া মডেল থানার বহুল আলোচিত বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেনকে বদলি করা হলো। বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ সদর দফতর থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশ আসে। আলমগীর হোসেনকে আরএমপি থেকে রাজশাহী রেঞ্জে বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে।  

সহিংসতাকে পুঁজি করে ব্যাপক আটক ও গ্রেফতার বাণিজ্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আলমগীর হোসেনকে আরএমপি থেকে বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে যুগান্তরের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান আনু মোস্তফা, দৈনিক প্রথম আলোর আলোকচিত্রী শহীদুল ইসলাম ও চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের ক্যামেরা পারসন রায়হানুল হকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দিলেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজশাহীর সর্বস্তরের সাংবাদিকদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এদিকে আরএমপির উপকমিশনার (সদর) তানভীর হায়দার চৌধুরী ওসি আলমগীরের বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার বিকেলে জানান, ওসি আলমগীরকে বদলির আদেশ তাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। তাকে রাজশাহী রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।  

পুলিশের সূত্রগুলো জানায়, ওসি আলমগীর জানুয়ারিতে যোগদান করে বোয়ালিয়া মডেল থানা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। সাধারণ ছাত্র ও ব্যবসাায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির এবং পেশার মানুষকে থানায় ধরে নিয়ে গিয়ে মামলায় জড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে নিম্নে ১০ হাজার থেকে ঊর্ধ্বে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওসি আলমগীরের আটক ও গ্রেফতার বাণিজ্যের কারণে নগরীর জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলমগীরের গ্রেফতার বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশিত হলে সাংবাদিক আনু মোস্তফাসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলকভাবে গাড়ি পোড়ানো ও পুলিশের ওপর হামলার একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টি সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন ওসির  অপসারণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন।

অবশেষে আরএমপির কমিশনার ওসি আলমগীরের গ্রেফতার বাণিজ্যের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি অভিযোগের তদন্ত শেষে সাময়িক বরখাস্তসহ ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। তবে গত দেড় মাসেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।  

অপরদিকে আলমগীরের অন্যতম সহযোগী ও এবং ব্যাপক গ্রেফতার বাণিজ্যের অভিযোগ থাকলেও আরেক বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ওসি, তদন্ত) আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।  

এমজেড/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।